অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘হামলাগুলোতে আইএস যোদ্ধা, অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করা হয়েছে। অভিযানটির নাম ছিল ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’। এটি যুদ্ধের সূচনা নয়, এটি প্রতিশোধের ঘোষণা। আজ আমরা আমাদের শত্রুদের শিকার করেছি এবং হত্যা করেছি। আমরা তা চালিয়ে যাব।’
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এ অভিযানে এফ-১৫ ও এ-১০ যুদ্ধবিমান, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং হিমার্স রকেট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।
বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য মতে, গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সিরিয়ার পালমিরা শহরে একটি হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। ওই হামলায় আরও তিনজন মার্কিন সেনা আহত হন।
হামলাকারী মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর একটি কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং পরে গুলিতে নিহত হয়। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলাকারী সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং আইএসের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, পালমিরা হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনী সিরিয়া ও ইরাকে ‘১০টি অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে ২৩ জন সন্ত্রাসী নিহত বা আটক হয়েছেন’।
এটা ছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ উৎখাত হওয়ার পর প্রথম মার্কিন হামলার ঘটনা।তবে নিহত বা আটক ব্যক্তিরা কোন গোষ্ঠীর সদস্য তা স্পষ্ট করেনি সেন্টকম।
শুক্রবারের মার্কিন হামলা নিয়ে সিরিয়া সরকার সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেছে, দেশটি ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।