আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জোটের নেতৃবৃন্দ এমনটা জানিয়েছেন।
এদিন বৈঠকে জোটের ১১ দলের মধ্যে ১০টি দল অংশ নেয়। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিল না।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমাদের মধ্যে যে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে এরমধ্যে কিছুটা ভিন্নতা হচ্ছে। তবে এটিকে ঝামেলা বলা যায় না। আমরা রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করব। সেখানে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানান, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের যে প্রক্রিয়া চলছে সেই ১১ দলের মধ্যে এই বৈঠক ছিল। শীর্ষ বৈঠকের এই আয়োজনটা খুবই তাড়াহুড়া এবং ক্রিটিক্যাল সময়ের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০টি দল আমরা বৈঠক করেছি। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দদের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। বৈঠকের আগে এবং বৈঠকের মধ্যে থেকেও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই নীরবতা একদিন কাল হয়ে দাঁড়াবে, হাদি হত্যার বিচার চেয়ে তাসরিফের পোস্ট
তিনি বলেন, রাত ৮টায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আমাদের সংবাদ সম্মেলন হবে। সেখানে ইনশাআল্লাহ, আমাদের চূড়ান্ত বক্তব্য যেগুলো সব ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা উপস্থাপন করতে পারব বলে আমরা আশা করছি। ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে আমাদের প্রত্যাশা যে, আমরা যেভাবে একসঙ্গে শুরু করেছিলাম সেভাবে একসঙ্গেই সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারব। আমরা আশাবাদী।
আসন সমঝোতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাত ৮টায় আমাদের সংবাদ সম্মেলন আছে। আসন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় আমরা সেই সংবাদ সম্মেলনে জানাব ইনশাআল্লাহ। সেখানে ইসলামী আন্দোলনকে অ্যাকমোডেট করেই আমরা আমাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারব বলে আশা করছি।
আরও পড়ুন: ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুই আসনে নির্বাচন
অন্যদিকে জোট অটুট রাখতে আসন সমঝোতায় সময় নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা সময় নিচ্ছি, জোট প্রক্রিয়া যাতে অটুট থাকে। আসন সমঝোতার জোট হলেও এটার রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। একটা আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে। সংস্কার, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরোধিতা- এসব অ্যাজেন্ডাগুলোকে সামনে রেখে আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ জায়গায় অংশগ্রহণ করব। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উত্তরণ করব। তাই মত-ভিন্নতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করছি। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব, এই জোট প্রক্রিয়া যাতে অটুট থাকে। জোটের প্রার্থী যাকেই মনোনীত করা হবে, বৃহত্তর স্বার্থে তাকেই সব দল সহযোগিতা করবে।
One thought on "১১ দলের আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাত ৮টায়"
Comments are closed.