শবে বরাতের ফজিলত ও প্রমাণ
এক.আল্লাহ তাআলা শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে সৃষ্টিকুলের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতিত সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. নং ৫৬৬৫)
বর্ণিত হাদিসটি আল্লামা আলবানি রহ. ইমাম তাইমিয়া রহ. এবং মুবারকপুরি রহ. প্রমুখগনের মতেও সহিহ। দুই.আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে আগমন করেন অত:পর কালব গোত্রের বকরির পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশী মানুষকে ক্ষমা করেন। (সুনানে তিরমিজি- হা. নং ৭৩৯)
শবে বরাতে করণীয় কাজ সমূহ
এ রাতে বিশেষ কোন ইবাদত নেই। তবে এক. বেশী বেশী নফল নামাজ পড়া। দুই.তিলাওয়াত, জিকির আজকার করা।তিন.দোয়া,কান্না-কাটি করে ক্ষমা চাওয়া। চার.পরের দিন অর্থাৎ ১৫ শাবান রোজা রাখা।
শবে বরাতে বর্জনীয় কাজ সমূহ
শবে বরাত বিদআত নয়, তবে তাতে এমন কিছু কাজ পরিলক্ষিত হয়, যা সম্পূর্ণ বিদআত ও ভিত্তিহীন। তাই প্রত্যেককে এগুলো থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা আবশ্যক। এক.শিণী, হালুয়া রুটি বা মিষ্টি বিতরণ করা। দুই. মসজিদ, ঘর-বাড়ি, অফিস আদালতে আলোকসজ্জা করা।
তিন.পটকাবাজী, আতশবাজী করা। চার.কবর বা মাজারে ফুল দেওয়া,আলোকসজ্জা করা। পাঁচ.দল বেঁধে কবরস্থানে যাওয়া।(জীবনে একবার শবে বরাতে কবরস্থানে গেলেই এ মুস্তাহাব আদায় হয়ে যাবে)
বিদআতের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ
কেননা হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে,আল্লাহ তাআলা বিদআতির নামাজ, রোজা, দান-সদকা, হজ উমরা, জিহাদ, ফরজ নফল কোন ইবাদতই কবুল করেন না। বিদআতিরা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যায়, যেমন আটার খামিরা থেকে চুল বেরিয়ে যায়। (ইবনে মাজাহ-৪৯)
লেখক: মুফতি জুবায়ের বিন আবদুল কুদ্দুছ সিনিয়র শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা
খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ
পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ