শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষার মাধ্যমে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার। এবারের অমর একুশে বইমেলায় দলটি পুতুলনাচ, গল্প বলা, ইন্টারঅ্যাকটিভ পাপেট শো, পুতুল তৈরির কর্মশালা এবং বায়োস্কোপ প্রদর্শনের আয়োজন করে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
২০১৯ সালে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের যাত্রা শুরু হয়। দলের সদস্যরা বাংলাদেশের পুতুলনাট্যের অন্যতম পথিকৃৎ ড. রশীদ হারুন স্যারের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বাংলাদেশ পুতুল নাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র-এর পরিচালক। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পাঁচ সদস্যের দলটি দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য নিয়ে পরিবেশনা করে আসছে।
দলের সদস্যরা জানান, বর্তমান সময়ে শিশুরা অতিরিক্ত মোবাইল গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই গল্প, ছড়া ও গানকে পুতুলনাচের মাধ্যমে উপস্থাপন করে শিশুদের আনন্দের সঙ্গে শিক্ষার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
তাদের নাটকের মূল বিষয়বস্তুতে থাকে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্প্রীতি, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ। যেমন: গাছ না কাটা, বেশি করে গাছ লাগানো, অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ অপচয় না করা ইত্যাদি বার্তা শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দলটি জানায়, তাদের পরিবেশনা শুধু শিশুদের জন্য নয়; বড়রাও যেন শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যেতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে পুতুলনাটক হয়ে উঠছে সব বয়সী দর্শকের জন্য উপভোগ্য এক বিনোদনমাধ্যম।
এবারের বইমেলায় প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং অন্যান্য দিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তারা অবস্থান করছেন। প্রতি এক ঘণ্টা পরপর শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ আয়োজন ও পুতুল তৈরির কর্মশালা দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
মেলায় আগত শিশুদের অভিভাবকরা জানান, ঢাকার মতো জনবহুল শহরে যেখানে খেলার মাঠ ও প্রকৃতির সংস্পর্শের সুযোগ সীমিত, সেখানে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ শিশুদের জন্য নতুন আনন্দের উৎস হয়ে উঠেছে। নিয়মিত এমন আয়োজন হলে তা শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীল চিন্তাধারায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা মত দেন।
শিশুদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলা এবং মোবাইল গেমস থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই বইমেলায় অংশগ্রহণ করেছে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত চিন্তাধারা ও মননের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
One thought on "অমর একুশে বইমেলায় ভিন্নধর্মী উদ্যোগ কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের"
Comments are closed.