বিরোধীদলীয় নেতা মনে করেন, এই পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ সরকারের কাছে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে একটি ‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।
সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকদের মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে অত্যন্ত সতর্কতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সময় দেশের স্বার্থ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ক্ষমতাসীন দলের নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমন প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের কাউকে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে পদায়ন করলে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর শফিকুর রহমান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে মাহমুদুল হাসানকে সরিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের কথা পররাষ্ট্র সচিবকে জানানো হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর দক্ষতা ও পেশাদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রেখেছেন।
চিঠিতে নিজ পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে মন্ত্রণালয়ে পদায়নের প্রস্তাবকে ‘অভিনব’ ও ‘নতুন’ বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি লিখেছেন, ‘ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি একসঙ্গে পরিচালনার জন্য পদায়নটি সরকারের কাছে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করছি।’
এ বিষয়ে সাবেক কূটনীতিক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট এম হুমায়ূন কবীর বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করা সরকারের কাজ। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিরোধী দল ভূমিকা রাখতে চাইলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্ব এককভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। সরকারি কাঠামোর ভেতরে বিরোধী দলের কাউকে পদায়ন করলে মন্ত্রণালয়ের কাজে বিশৃঙ্খলা ও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাঁর মতে, সরকারের বাইরের কারও জন্য এভাবে পদায়নের কোনো অভিজ্ঞতা বা নজর বিশ্বে বিরল।
One thought on "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ উপদেষ্টার পদায়ন চান জামায়াত আমির মো. শফিকুর রহমান"
Comments are closed.