কিংস অ্যারেনার বিকেলটা যেন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছিল এক নাটকীয় ফুটবল গল্পে।মাঠে ছিল গতি,উত্তেজনা,আর প্রতিটি আক্রমণের সঙ্গে গ্যালারির হৃদস্পন্দন যেন একটু করে বেড়ে যাচ্ছিল।বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শীর্ষ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল দুই শক্তিশালী দল বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি।নব্বই মিনিট শেষে সেই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শেষ হাসিটা হাসল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস।পাঁচ গোলের দারুণ এক ম্যাচে ফর্টিসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল তারা।
এই জয়ের নায়ক একাই একজন।ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দোরিয়েলতন গোমেজ।ম্যাচজুড়ে তার দুর্দান্ত উপস্থিতি আর নিখুঁত ফিনিশিং যেন কিংসের আক্রমণভাগকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।হ্যাটট্রিক করে তিনি শুধু ম্যাচের পার্থক্যই গড়ে দেননি,সমর্থকদের জন্যও রেখে গেছেন স্মরণীয় এক সন্ধ্যা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে।একপাশে কিংসের দ্রুতগতির আক্রমণ,অন্যদিকে ফর্টিসের সংগঠিত পাল্টা আক্রমণ।প্রথম দিকে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা মিলছিল না।তবে ১৯ মিনিটে নীরবতা ভাঙে ফর্টিস এফসি।মিডফিল্ড থেকে পা ওমরের নিখুঁত পাস পেয়ে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ওনিয়েকাচি ওকাফর কিংসের রক্ষণ ভেদ করে জালে বল জড়ান।হঠাৎই ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বসুন্ধরা কিংস,গ্যালারিতেও তখন কিছুটা নীরবতা নেমে আসে।

তবে চ্যাম্পিয়নদের চরিত্রই আলাদা।পিছিয়ে পড়ার পর খুব দ্রুতই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে কিংস।২৪ মিনিটে ডান দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন রাকিব হোসেন।তাকে থামাতে গিয়ে ফাউল করেন ফর্টিসের ডিফেন্ডার আবদুল্লাহ ওমর,আর তাতেই রেফারির বাঁশি।পেনাল্টি স্পট থেকে ২৬ মিনিটে দোরিয়েলতন ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।১-১ গোলের সেই সমতা ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।বাকি সময় দুই দলই চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধ শেষ হয় সমতায়।
বিরতির পর মাঠে ফিরে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বসুন্ধরা কিংস।৫২ মিনিটে সেই চেষ্টার ফলও পেয়ে যায় তারা।ফয়সাল আহমেদের দারুণ একটি ক্রস বক্সে পৌঁছাতেই সুযোগ বুঝে পা ছুঁইয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন দোরিয়েলতন।২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় কিংস।
তবে ফর্টিসও সহজে হার মানার দল নয়।ম্যাচের শেষ ভাগে তারা আবার আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়।৭৫ মিনিটে ভুটানি উইঙ্গার দাওয়া শেরিংয়ের নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে অনন্ত তামাং দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান।স্কোরলাইন তখন আবার ২-২।ম্যাচ যেন নতুন করে শুরু হলো।
কিন্তু সেই সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।সমতায় ফেরার মাত্র তিন মিনিট পরই আবার সামনে আসেন দোরিয়েলতন।৭৮ মিনিটে ফর্টিসের রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।তার সেই গোলেই আবার এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস,স্কোরলাইন হয় ৩-২।
শেষ সময়টায় ফর্টিস চেষ্টা করলেও আর সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।শেষ বাঁশি বাজতেই কিংস অ্যারেনা ভরে ওঠে উল্লাসে।এই জয়ে ১১ ম্যাচ শেষে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল বসুন্ধরা কিংস।আর এই ম্যাচটি মনে রাখা হবে দোরিয়েলতনের অসাধারণ হ্যাটট্রিক আর দুই দলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের জন্য।