মির্জা আব্বাস বলেন, ‘নতুন সরকার দেশের আন্দোলনের দাবির একটি অংশ হিসেবে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩৬ হাজার সুবিধা চালু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে আরো অনেক সুবিধা চালু করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার একেবারেই নতুন।
কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ ও রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই এমনভাবে কথা বলছে, যেন এটি ১৭ বছরের পুরনো সরকার, অথচ কিছুই করছে না।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সরকার কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের রেশ কাটাতেই অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখনই সবকিছু দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্বেই একটি বৈশ্বিক দুরবস্থা চলছে। এ কারণে কিছু সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক।
কিন্তু এক শ্রেণির রাজনৈতিক দল এসব বিষয়কে ব্যবহার করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। কোনো সরকারকে বিব্রত করে যদি কেউ ক্ষমতায় আসে, তাহলে তাকেও একদিন বিব্রত করা হবে। এতে দেশের উন্নয়ন হবে না।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তাঘাট বা সেতু নির্মাণকে বোঝায় না। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ।
তিনি চিকিৎসা খাতের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজেও একজন রোগী হিসেবে চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
তিনি বলেন, ‘একসময় এই হাসপাতালের চিকিৎসার মান খুব ভালো ছিল। এখন কেমন আছে জানি না, তবে হাসপাতালে এসে আমার কাছে পরিবেশ ভালো মনে হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, একসময় এখানে বিদেশি চিকিৎসকরাও দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসপাতালটি খুব সুন্দর জায়গায় অবস্থিত এবং বড় জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। তার মতে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরে এত বড় জায়গা নিয়ে খুব কম হাসপাতাল রয়েছে।
তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘মানুষের সেবা করা একদিকে পেশা, অন্যদিকে খেদমতের কাজ। এই দুই বিষয় একসঙ্গে ধরে রেখে চিকিৎসার মান আরো উন্নত করতে হবে।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে হার্টের অপারেশন, চোখের চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা। ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশ থেকেও রোগীরা বাংলাদেশে আসে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, উন্নত চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে চিকিৎসকরা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন এবং একই সঙ্গে সরকার ও দেশের মানুষকে সহযোগিতা করবেন।