এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয়েছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি।
১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগে হামের টিকা নেয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাসের সব শিশুদের হামের টিকা দিতে পারবে। তবে যাদের জ্বর কিংবা হাসপাতালে ভর্তি, তাদের অসুস্থ অবস্থায় টিকা নেয়া যাবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকা কার্যক্রম সফল হলে কমতে পারে হামের প্রাদুর্ভাব। মানব শরীরে টিকার প্রতিক্রিয়া শুরু হতে সময় লাগে ১৫ দিন থেকে এক মাস। সে হিসাবে টিকা কার্যক্রম সফল হলে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে সময় লাগতে পারে এক মাস।
চলমান জরুরি ক্যাম্পেইনে টিকা নেয়া শিশুদের চলতি বছর জুনে আবার বুস্টার ডোজ নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
শিশু সংক্রমত রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মীর্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘যখন টিকা দেয়া হচ্ছে, তখন একটি সেল এদিক-ওদিক করছে আর আরেকটি সেল মেমোরি হিসেবে স্টক থেকে গেল। সেই মেমোরি সেলটা দ্বিতীয় ডোজের সময় থেকে তার কাজ শুরু করে দেবে। সুতরাং একমাসের মধ্যে টিকার প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘টিকার কারণে এক মাসের মধ্যে রোগীর সংখ্যা কমে আসবে। তবে মৃতের সংখ্যা কমতে আরও একমাস অপেক্ষা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি টিকায় আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। দুটি টিকা হলে সেটা শতভাগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন হবে। এখন যে জরুরি টিকা দেয়া হচ্ছে। জুন মাস থেকে গণটিকা দেয়া শুরু হবে। তখন প্রথম টিকা নেয়া শিুশুরাও দ্বিতীয় টিকা নিতে পারবে।’
চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতালে ভর্তি বেশির ভাগ শিশুর সংক্রমণ ছড়িয়েছে আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসে। আক্রান্ত হচ্ছে একই পরিবারের একাধিক শিশু। হাম অন্য যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি থেকে দ্রুত ছড়ায়। ঘনবসতির কারণে রাজধানী ঢাকা সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। তাই হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আক্রান্তদের পাড়া মহল্লা ভিত্তিক আইসোলেশনে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
One thought on "হামে আক্রান্তের সংখ্যা কবে কমবে, জানালেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা"
Comments are closed.