বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ফল উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত জুলাই ডকুমেন্টারিতে ছবি না থাকায় ক্ষোভ, উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠান বয়কট ছাত্রদলের একাংশের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো গবেষণা প্রকল্প ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেমিনার জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর মোজাফফরের বিচার হবে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি স্বর্ণ বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ৪০০ ড্রোন দিয়ে রাশিয়ায় হামলা ইউক্রেনের এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা চালু করল সৌদি আরব সারাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ২৭ মোট ভিউ

জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা একযোগে সব শ্রেণির কর্মচারী পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে পেনশনভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন এক ধাপে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি বিবেচনায় রেখেই এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ১ জুলাই থেকেই সংশোধিত বেতনের পুরো সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের অর্ধেক কার্যকর করা হতে পারে। পরে দ্বিতীয় ধাপে বাকি অংশ এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হবে। এ কারণে জুলাইয়ে পে-স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অক্টোবরের আগে নতুন হারে বেতন পরিশোধ শুরু নাও হতে পারে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইভাবে পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সুবিধা সম্প্রসারণের আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এক রকম নয়। কোথাও সরকারি বেতন স্কেল সরাসরি অনুসরণ করা হয়, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব চাকরি বিধিমালা কার্যকর রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও প্রয়োজন হয়।

এ অবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখন সরকারি প্রজ্ঞাপনের দিকেই তাকিয়ে আছেন। চূড়ান্ত নির্দেশনায় তাদের অন্তর্ভুক্তি কীভাবে উল্লেখ করা হবে এবং পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেবে, তার ওপরই নির্ভর করবে তারা কবে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, নবম পে-স্কেলের প্রথম সুবিধাভোগী হবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়ে গেছে।

এদিকে বুধবার (২৪ জুন) সচিব কমিটির বৈঠকে পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশগুলো নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী-সংক্রান্ত সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ দুটি বিষয়ে আরও আলোচনা শেষে আলাদা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকার একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। একটি প্রস্তাবে প্রথম ধাপে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা রয়েছে। আরেকটি বিকল্পে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য শতভাগ মূল বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

শেয়ার করুন

One thought on "স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল"

Comments are closed.

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital