মঙ্গলবার (৩০ জুন) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. শাখাওয়াত হোসেন তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. শাখাওয়াত হোসেন তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
পটিয়া থানা পুলিশ জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অপহরণের নাটক সাজানো এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৬ জুন দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়ান।
পুলিশের ভাষ্য, চিরকুটের হাতের লেখা, প্রযুক্তিগত তথ্য, স্থানীয় সূত্র এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নামে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন এবং স্থানীয়দের অনুসন্ধান কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন, যাতে তাদের প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি না হয়।
নিহতের এক স্বজন বলেন, ‘যারা আমাদের সঙ্গে থেকে জায়ানকে খুঁজছিল, তারাই তাকে হত্যা করেছে—এটা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
নিহতের মামা জিসান বলেন, ‘জায়ান ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামের আদালতে প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহা, তার বাবা মো. সাইফুদ্দিন এবং মা শাহনুর আক্তারকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত নিহার তিন দিনের এবং তার বাবা-মায়ের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।