জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হল ছাত্রদলের উদ্যোগে ৫৫তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৯টায় হলের কমনরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীনদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের হাতে উপহার হিসেবে কলম ও নোটবুক তুলে দেওয়া হয় এবং আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হল ছাত্রদলের সভাপতি সাঈফ বিন মাহবুব এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম।
সভাপতির বক্তব্যে সাঈফ বিন মাহবুব জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ৫৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা। নতুন পরিবেশে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও শের-ই-বাংলা হলকে নিরাপদ আবাস হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, “শের-ই-বাংলা হলে র্যাগিং, গেস্টরুম কালচার কিংবা জোরপূর্বক কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমের কোনো স্থান নেই। শিক্ষার্থীদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে বড় ভাই হিসেবে আমরা সবসময় পাশে থাকব।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, বই পড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এসেছে। প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি শিক্ষার্থীদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং মাওলানা ভাসানীর জীবন ও আদর্শ অধ্যয়নের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় নৈতিকতা ও দেশপ্রেম একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ নাগরিক ও নেতৃত্বে পরিণত হতে সহায়তা করে বলেও উল্লেখ করেন।
নবীনদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি সবার সফলতা কামনা করেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে হলজীবন, গেস্টরুম ও র্যাগিং নিয়ে তার এবং পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবে হলে এসে ব্যক্তিগত বেড, টেবিল ও ডেস্কসহ সুন্দর পরিবেশ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও দায়িত্বশীলদের কঠোর অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়।
তাদের হাতে উপহার হিসেবে কলম ও নোটবুক তুলে দেওয়া হয় এবং খাবার পরিবেশন করা হয়। এ সময় হল ছাত্রদলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নবীন শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।