শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
Manarat Invitational- Chapter One এ বিজয়ী জবি ডিবেটিং সোসাইটির টিম ‘একাত্তরের গণহত্যা’ জবি মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে আরিফুল-শাকিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ–২০২৬ ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা সৈকতকে কুপিয়ে হত্যা জুলাই সনদের পথ ধরেই হাঁটবে সরকার: আইনমন্ত্রী তিন বন্ধুর হাত ধরে মফস্বলে স্বপ্নের দিগন্তে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’ সিংড়ার সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বানরীপাড়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নীলফামারীতে এনডিইএ’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ২১ শে আগস্ট উপলক্ষে জবিতে ব্যানার দিয়ে উপস্থিতি জানান দিল ছাত্রলীগ

চাঁদে ফেরার মহাযাত্রার প্রস্তুতি, পৃথিবীর কক্ষপথেই হবে গুরুত্বপূর্ণ মহড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ২৪ মোট ভিউ

 

চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেল নাসা। মহাকাশ সংস্থাটি ২০২৭ সালের আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে আগের পরিকল্পনার মতো সরাসরি চাঁদে নামার বদলে, এই মিশনটিতে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে একটি জটিল পরীক্ষামূলক মহড়া হিসেবে পরিচালিত হবে।

 

এই মিশনে নভোচারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটে চড়ে ওরিয়ন মহাকাশযানে যাত্রা করবেন। মহাকাশে গিয়ে তারা স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের তৈরি পরবর্তী প্রজন্মের চাঁদে নামার যান (লুনার ল্যান্ডার)-এর পরীক্ষামূলক সংস্করণের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া অনুশীলন করবেন।

 

নাসা বলছে, এটি মূলত ২০২৮ সালের আর্টেমিস-৪ মিশনে চাঁদে অবতরণের আগে একটি বড় ধরনের প্রস্তুতি মহড়া।

ঘোষিত নভোচারী দলের নেতৃত্বে থাকবেন র‌্যান্ডি ব্রেসনিক, যিনি একজন অভিজ্ঞ নভোচারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন কর্নেল। তিনি তিনবার মহাকাশে উড়েছেন, প্রায় ১৫০ দিন কক্ষপথে কাটিয়েছেন এবং ৩২ ঘণ্টা স্পেসওয়াক করেছেন।

 

পাইলট হিসেবে থাকবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইতালীয় নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি এর আগে দুইবার মহাকাশে গেছেন এবং আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপীয় নভোচারী হবেন।

 

মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে রয়েছেন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও, যিনি ২০২২-২৩ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে টানা ৩৭১ দিন অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম একক মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন।

 

দলের চতুর্থ সদস্য আন্দ্রে ডগলাস, যিনি এই প্রথম মহাকাশে যাচ্ছেন। তিনি ২০২১ সালের নভোচারী ব্যাচে নির্বাচিত হন এবং আগে টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার ও ইউএস কোস্টগার্ডের রিজার্ভ কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন।

 

এই প্রায় দুই সপ্তাহের মিশনে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে এক বা একাধিক লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পরীক্ষা চালাবেন। পাশাপাশি ওরিয়ন মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম ও নতুন স্পেসস্যুটের কার্যকারিতাও যাচাই করা হবে।

 

নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই মিশনকে ‘অত্যন্ত রোমাঞ্চকর, জটিল ও সমন্বিত একাধিক উৎক্ষেপণভিত্তিক অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মানবজাতির চাঁদে ফিরে যাওয়ার পথে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

তিনি আরও বলেন, এই মিশনের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে, যা ভবিষ্যতে মানুষকে আরও গভীর মহাকাশে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

 

নাসার মতে, এই মিশনে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভূমিকা থাকবে। হাজার হাজার বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 

সব মিলিয়ে, আর্টেমিস-৩ শুধু একটি মহাকাশ মিশন নয়—এটি ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযান এবং আরও দূরে মহাকাশ অনুসন্ধানের ভিত্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital