শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
Manarat Invitational- Chapter One এ বিজয়ী জবি ডিবেটিং সোসাইটির টিম ‘একাত্তরের গণহত্যা’ জবি মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে আরিফুল-শাকিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ–২০২৬ ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা সৈকতকে কুপিয়ে হত্যা জুলাই সনদের পথ ধরেই হাঁটবে সরকার: আইনমন্ত্রী তিন বন্ধুর হাত ধরে মফস্বলে স্বপ্নের দিগন্তে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’ সিংড়ার সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বানরীপাড়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নীলফামারীতে এনডিইএ’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ২১ শে আগস্ট উপলক্ষে জবিতে ব্যানার দিয়ে উপস্থিতি জানান দিল ছাত্রলীগ

১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল, সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ১২ মোট ভিউ

 

ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া রুখতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এ সংক্রান্ত ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে যুগোপযোগী নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। যাতে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং করলে সাত বছরের জেলের পাশাপাশি পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

আইনে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল জুয়া, প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ্য, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন পাস হওয়া আইনটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ দেড়শতাধিক বছরেরও পুরোনো। ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনি কাঠামো অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল।

অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।

এ কারণেই পুরোনো আইনটি রহিত করে কঠোর সাজার বিধান রেখে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া, অনলাইন বেটিং (স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং ইত্যাদি), ক্রিপ্টোকারেন্সি, ঘোস্ট সিম ও ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আইনে বলা হয়েছে, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া জুয়ার সরঞ্জামাদি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান।

আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালিত হবে।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital