জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হলে তরুণদের জামায়াতের রাজনীতি ও তাদের কথিত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন :
মোজাফফরের বিচার হবে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
নুরুল হক নুর বলেন, দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াতের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতের কথিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আজ তারা বাইরে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু ভেতরে ইতিবাচক আলোচনা করছে। বাইরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করা হচ্ছে, যার ফলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নুর বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অতীত অধ্যায়। দলটির কোনো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নেই দাবি করে সরকারের প্রতি দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানান তিনি।
নুরুল হক নুরের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ব্যবহার করে জামায়াতপন্থীদের পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত ও বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যেন জামায়াতই দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করা হয়েছে। অনেক আসনে বাস্তবতার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারের কোনো মিল ছিল না।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু তরুণ রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার আগেই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামায়াতকে যারা সমর্থন করে, তারা জামায়াতেই আছে। কিন্তু নতুন করে যদি আরেকটি প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বিদেশি শক্তির প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। তার অভিযোগ, জামায়াতকে সামনে রেখে দেশে উগ্রবাদের উত্থানের একটি বয়ান তৈরি করে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।
তিনি বলেন, জামায়াতের উত্থান হলে আগামী দিনে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই এখনই সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি।
বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে নুর বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে সফল হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে ব্যর্থ করার যেকোনো অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দেশের জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি।
One thought on "জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর"
Comments are closed.