বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি সংরক্ষণে যত অর্থ ব্যয় করা হয়, তার বিপরীতে প্রকৃতি ধ্বংসে প্রায় ৩০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। খবর ইউএন নিউজের।
‘স্টেট অব ফাইন্যান্স ফর নেচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে প্রকৃতিবিরোধী খাতে অর্থপ্রবাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৪.৯ ট্রিলিয়ন ডলার আসছে বেসরকারি খাত থেকে, যা মূলত বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি, শিল্প, জ্বালানি এবং কাঁচামালভিত্তিক খাতে কেন্দ্রীভূত।
অন্যদিকে ২০২৩ সালে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এসব ভর্তুকি মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও নির্মাণ খাতে দেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ইউএনইপি। প্রতিবেদনে প্রকৃতি রক্ষায় বৈশ্বিক অর্থায়নের ধারা বদলানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান বা নেচার-বেসড সল্যুশনস (এনবিএস)–এর দিকে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভ, ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছি, দেশ ছেড়ে কোথাও যাবো না: মির্জা ফখরুল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান বা এনবিএস খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২২০ বিলিয়ন ডলার, যার প্রায় ৯০ শতাংশই সরকারি উৎস থেকে এসেছে। এতে প্রমাণ হয়, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারি সহায়তা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
তবে সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অর্থপ্রবাহ এখনও প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে। এর ফলে পরিবেশ ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অর্থনীতি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হলেও সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাত সম্মিলিতভাবে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষয় করে চলেছে।
২০২৩ সালে প্রকৃতির জন্য সরাসরি ক্ষতিকর খাতে বিনিয়োগ ছিল ৭.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ২২০ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে আইসিসি: ক্রীড়া উপদেষ্টা
জাতিসংঘের রিও কনভেনশনগুলোর লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে এনবিএস খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৫৭১ বিলিয়ন ডলারে নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিকর অর্থপ্রবাহ বন্ধ করে সেগুলো পুনর্বিন্যাস করতে হবে বলে প্রতিবেদনে জোর দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদিও প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানে অর্থায়ন বাড়ছে, তবু তা এখনও বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।
One thought on "প্রকৃতি রক্ষায় ১ ডলার, ধ্বংসে ৩০ ডলার খরচ করছে বিশ্ব: জাতিসংঘের প্রতিবেদন"
Comments are closed.