ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা আগে কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি। এমন অভিযোগই করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। তথ্য আল-জাজিরার।
লোপেজ গত সপ্তাহে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর এবং অচেনা সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ব্যবহার করেছে। ভেনেজুয়েলার দৈনিক এল ইউনিভার্সালকে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
এর মধ্যেই গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে জানান, ভেনেজুয়েলায় অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যাকে তিনি ‘ডিসকমবোবুলেটর’ নামে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: চাঁদাবাজদেরকে আমরা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে আসব: জামায়াতের আমির
ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কথা বলার অনুমতি নেই। তবে তিনি জানান, ওই অস্ত্রটি অভিযানের সময় শত্রুর প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম অকার্যকর করে দেয়।
মাদুরোকে অপহরণের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মিশনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র এমন অস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে, যা শত্রুপক্ষের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের দিশেহারা করে ফেলে কিংবা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো অচল করে দেয়।
গত ১৬ জানুয়ারি পাদ্রিনো লোপেজ জানান, কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৪৭ জন ভেনেজুয়েলান সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৩২ জন কিউবান সেনাও নিহত হন বলে তিনি দাবি করেন।
এরপর গত সপ্তাহে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ‘অস্ত্র পরীক্ষাগার’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তার ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন যে তারা এমন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, যা আগে কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার হয়নি এবং যা বিশ্বের আর কারও কাছে নেই। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউজ চ্যানেল নিউজনেশনে দেয়া ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারের কথাই ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে ট্রাম্প একটি ‘সনিক অস্ত্র’ ব্যবহারের কথা বলেন।
‘গোপন অস্ত্র’ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
মাদুরো অপহরণের কয়েক দিন পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভেনেজুয়েলান নিরাপত্তাকর্মীর পোস্ট শেয়ার করেন। ওই নিরাপত্তাকর্মী লেখেন, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছু একটা নিক্ষেপ করেছিল’, যা ছিল ‘ভীষণ তীব্র শব্দতরঙ্গের মতো’।
তিনি লেখেন, ‘হঠাৎ মনে হলো মাথার ভেতর থেকে বিস্ফোরণ হচ্ছে। আমাদের সবার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। কেউ কেউ রক্ত বমি করছিল। আমরা মাটিতে লুটিয়ে পড়ি, নড়াচড়া করতে পারছিলাম না।’
গত সপ্তাহে নিউজনেশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওই ‘সনিক অস্ত্র’ মাদুরোর কিউবান দেহরক্ষীদের লক্ষ্য করেই ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি জানান, ঘটনাস্থলটি ছিল একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আর কারও কাছে নেই। আমাদের কাছে এমন সব অস্ত্র আছে, যেগুলো সম্পর্কে কেউ জানে না। এসব নিয়ে কথা না বলাই ভালো। কিন্তু আমাদের কিছু অবিশ্বাস্য অস্ত্র রয়েছে। এটি ছিল একটি অসাধারণ আক্রমণ। মনে রাখতে হবে, ওই বাড়িটি একটি দুর্গ ও সামরিক ঘাঁটির মাঝখানে অবস্থিত ছিল।’
এরপর রোববার নিউইয়র্ক পোস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম অকার্যকর করে দেয়। তিনি বলেন, ‘ডিসকমবোবুলেটর। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারি না।’
One thought on "ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন অস্ত্র’ ব্যবহার: যেভাবে কাজ করেছে এই রহস্যময় প্রযুক্তি"
Comments are closed.