শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
Manarat Invitational- Chapter One এ বিজয়ী জবি ডিবেটিং সোসাইটির টিম ‘একাত্তরের গণহত্যা’ জবি মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে আরিফুল-শাকিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ–২০২৬ ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা সৈকতকে কুপিয়ে হত্যা জুলাই সনদের পথ ধরেই হাঁটবে সরকার: আইনমন্ত্রী তিন বন্ধুর হাত ধরে মফস্বলে স্বপ্নের দিগন্তে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’ সিংড়ার সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বানরীপাড়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নীলফামারীতে এনডিইএ’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ২১ শে আগস্ট উপলক্ষে জবিতে ব্যানার দিয়ে উপস্থিতি জানান দিল ছাত্রলীগ

বৃহত্তর লক্ষ্য পূরণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন খামেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৪০ মোট ভিউ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা ধরনের বিশ্লেষণ সামনে আসছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তিনি এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রেখেছিলেন যেখানে মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল স্পষ্ট। তাদের ধারণা, এই অবস্থান হয়তো ইচ্ছাকৃত ছিল—যাতে মৃত্যুর মাধ্যমে তিনি শহিদের মর্যাদা পান এবং জাতির মধ্যে প্রতিরোধ ও বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা আরও জোরদার হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি–আমেরিকান শিক্ষাবিদ হুশাং আমিরাহমাদি বলেন, খামেনি চাইলে খুব সহজেই আরও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি এমন একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন যেখানে হামলার ঝুঁকি ছিল। তার মতে, খামেনি হয়তো এমনভাবে পরিস্থিতি মেনে নিয়েছিলেন যাতে তার মৃত্যু হলে তিনি শহিদ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকেন—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে।

আমিরাহমাদি আরও বলেন, খামেনি চাইলে মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত নিরাপদ বাঙ্কারে থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি খোলা কমপ্লেক্সেই অবস্থান করছিলেন। তার ভাষায়, এটি এমন একটি অবস্থান ছিল যেখানে মৃত্যুর সম্ভাবনা ছিল এবং হয়তো তিনি তা জেনেই সেখানে ছিলেন।

অন্যদিকে সাবেক মার্কিন নৌ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক স্কট রিটার এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ জর্জ গ্যালাওয়েকে দেওয়া এক ইউটিউব সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে হামলার শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়েন।

রিটারের মতে, খামেনিকে হত্যা করার ঘটনা ইরানের জনগণের মধ্যে তার প্রতি সমর্থন ও আনুগত্য আরও বৃদ্ধি করেছে। তার দাবি, ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে খামেনিকে ট্র্যাক করা হচ্ছে এবং তিনি দেশ না ছাড়লে তাকে হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প বুঝতে পারেননি যে এই পরিস্থিতি উল্টো ইরানের জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তুলতে পারে।

রিটার বলেন, খামেনি নিজের বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন এবং তিনি জানতেন তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তার আশপাশে থাকা ঘনিষ্ঠ সমর্থকেরাও ঝুঁকির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তবুও তারা সেখানে ছিলেন, কারণ তাদের কাছে এটি শুধু মৃত্যুর সম্ভাবনা নয়—বরং শহিদ হওয়ার এক ধরনের পথ।

তার মতে, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যায় যে ঘটনাটি তাদের মধ্যে গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক মানুষ রাস্তায় নেমে তাকে শহিদ হিসেবে স্মরণ করে স্লোগান দিচ্ছে।

রিটার আরও দাবি করেন, ট্রাম্প শিয়া ধর্মীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখতেন না। তার মতে, শিয়া মুসলমানদের ইতিহাসে আত্মত্যাগ ও শহিদির ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কারবালার ঘটনার মতো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে।

তিনি আরও বলেন, খামেনিকে হত্যা করা বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত বড় একটি ঘটনা। রিটার এটিকে এমন এক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন, যেমন ক্যাথলিকদের জন্য পোপকে হত্যা করা বা অন্য কোনো বড় ধর্মীয় নেতাকে হত্যা করা।

তার মতে, ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামানো। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে—মানুষ আরও বেশি করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে একত্রিত হয়েছে। রিটার মনে করেন, যারা তাদের বিশ্বাসের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা খুব কঠিন।

তার ভাষায়, খামেনির এই আত্মত্যাগ ভবিষ্যতে ইরানের জন্য আরও বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে এবং দেশটির বৃহত্তর বিজয়ের পথকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital