বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নিজ এলাকা চারঘাটে জকসু নেতা জাহিদের উদ্যোগে শিশুদের কোরআন তেলাওয়াত ও ইফতার মাহফিল ইরান যুদ্ধের কারণে বাতিল হলো প্রধানমন্ত্রীর ওমরা সফর  আধিপত্য সইবে না বাংলাদেশ, ঘাড় থেকে বোঝা ফেলে দিয়েছে জাতি বিরোধিতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে কাজের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জবি উপাচার্যের জবিতে নতুন ভিসির ঐক্যের ডাক, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে অভিভাবকত্বের প্রতিশ্রুতি শবে কদরের মর্যাদায় ফুলেল বরণ বর্জন করে দোয়ার আহ্বান নবনিযুক্ত জবি উপাচার্যের দেশের ৯ বিশ্ব বিদ্যালয়ে একযোগে উপাচার্য নিয়োগ জুলাই সনদ উপেক্ষা করলে আবার ছাত্র-জনতা রাজপথে নামবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হলেন ড. রইছ উদ্‌দীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদেই জানতে চাওয়া হবে : নাহিদ ইসলাম

গোলবন্যার কিংস নাকি অটল রক্ষণ ফর্টিস,বিএফএল টাইটেল লড়াই জমে উঠছে

মো:পায়েল
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ২৮ মোট ভিউ

মাঠে নামার আগেই কিছু ম্যাচের চারপাশে অদ্ভুত এক উত্তেজনা জমে ওঠে।দর্শকরা বুঝে যায়,এটা কেবল আরেকটা ম্যাচ নয়।এটা এমন এক বিকেল,যেখানে নব্বই মিনিটের ভেতর বদলে যেতে পারে পুরো মৌসুমের গল্প।বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ২০২৫/২৬ মৌসুমে ঠিক তেমনই এক মুহূর্ত এসে দাঁড়িয়েছে।১৪ মার্চের বিকেলে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই শীর্ষ দল বসুন্ধরা কিংস এবং ফর্টিস এফসি।পয়েন্ট টেবিলে দুজনেরই সমান ২১ পয়েন্ট,দশ ম্যাচ শেষে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।তবুও গোল ব্যবধানে সামান্য এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে বসে আছে বসুন্ধরা কিংস,আর ঠিক তাদের ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে ফর্টিস এফসি।

এই মৌসুমে বসুন্ধরা কিংস যেন তাদের পরিচিত আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।দশ ম্যাচে তারা জিতেছে ছয়টি,ড্র করেছে তিনটি,হেরেছে মাত্র একটি ম্যাচ।সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গোল করার ক্ষমতা।মাত্র দশ ম্যাচেই ২৬টি গোল করেছে কিংস,যা পুরো লিগে তাদের আক্রমণভাগের তীব্রতা স্পষ্ট করে দেয়।গড় হিসেবে প্রতি ম্যাচেই তারা প্রায় ২.৬ গোল করছে,যা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো পরিসংখ্যান।সর্বশেষ ম্যাচেও সেই গল্পের পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিংস এরিনার সবুজ ঘাসে।ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই মোহাম্মদ হৃদয়ের গোল দলকে এগিয়ে দেয়,তারপর সময় যত গড়িয়েছে উত্তেজনা তত বেড়েছে।শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে ইমানুয়েল সানডের গোল যেন এক নাটকীয় সমাপ্তি লিখে দেয়।স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন আনন্দের ঢেউ,কারণ এই জয় তাদের শীর্ষে থাকার লড়াইকে আরও শক্ত করেছে।

অন্যদিকে ফর্টিস এফসির গল্পটা ভিন্ন,কিন্তু কম শক্তিশালী নয়।তাদের আক্রমণ তুলনামূলক কম হলেও কার্যকর।দশ ম্যাচে তারা ১৩টি গোল করেছে,গড় হিসেবে প্রতি ম্যাচে প্রায় ১.৩ গোল।সংখ্যাটা কিংসের মতো বড় নয়,কিন্তু তাদের খেলার ধরনটাই আলাদা।ফর্টিস সুযোগ কম তৈরি করলেও সুযোগ নষ্ট করে না,আর সেই কারণেই তারা প্রতিটি ম্যাচে ধৈর্যের ফুটবল খেলতে পারে।

তবে ফর্টিসের সবচেয়ে বড় শক্তি লুকিয়ে আছে তাদের রক্ষণভাগে।এই মৌসুমে তাদের ডিফেন্স যেন এক অদম্য দেয়াল।দশ ম্যাচে তারা মাত্র চারটি গোল হজম করেছে এবং সাতটি ক্লিন শিট রেখেছে,যা পুরো লিগেই সবচেয়ে শক্ত রক্ষণভাগের প্রমাণ।প্রতি ম্যাচে তাদের গোল হজম করার গড় মাত্র ০.৪।অর্থাৎ প্রতিপক্ষের জন্য গোল করা এখানে প্রায় যুদ্ধ জয়ের মতো কঠিন।

বসুন্ধরা কিংসের রক্ষণভাগও মোটেই দুর্বল নয়,তবে পরিসংখ্যান বলছে এখানে ফর্টিস কিছুটা এগিয়ে।কিংস দশ ম্যাচে মোট ১১টি গোল হজম করেছে এবং চারটি ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে।প্রতি ম্যাচে তাদের গোল হজম করার গড় প্রায় ১.১।তাই এই ম্যাচে তাদের আক্রমণ যতটা গুরুত্বপূর্ণ,রক্ষণভাগের দৃঢ়তাও ততটাই বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

  1. আরো পড়ুন :রাজধানীর কদমতলীতে ফজরের নামাজ শেষে ফেরার পথে বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখম করল ছিনতাইকারী

শেষ পাঁচ ম্যাচের ফর্মও এই লড়াইয়ে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করেছে।বসুন্ধরা কিংস পেয়েছে দুই জয়,দুটি ড্র এবং একটি হার।অন্যদিকে ফর্টিস এফসি এসেছে দুর্দান্ত ধারায়,চারটি জয় এবং একটি ড্র তাদের আত্মবিশ্বাসকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে।

১৪ মার্চ বিকেল ২টা ৪৫ মিনিট।সম্ভবত সেই মুহূর্তে মাঠের ঘাসের উপর শুধু দুই দলই দাঁড়িয়ে থাকবে না,দাঁড়িয়ে থাকবে পুরো মৌসুমের স্বপ্ন।একদিকে কিংসের আগ্রাসী আক্রমণ,অন্যদিকে ফর্টিসের অটল রক্ষণ।এই দুই ভিন্ন দর্শনের সংঘর্ষই ঠিক করে দিতে পারে লিগের শীর্ষে কার রাজত্ব আরও শক্ত হবে।কারণ এই ম্যাচের জয়ী দল শুধু তিন পয়েন্টই পাবে না,পাবে শিরোপার দৌড়ে এক বিশাল মানসিক সুবিধা।সমর্থকদের চোখ তখন ঘড়ির কাঁটায়,হৃদস্পন্দন একটু দ্রুত,কারণ সবাই জানে এমন ম্যাচগুলোই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital