ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে সাধারণত দলগুলোকে পেরোতে হয় কঠিন বাছাইযুদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলে অর্জন করতে হয় কাঙ্ক্ষিত টিকিট। তবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু অধ্যায় আছে, যেখানে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে পরিস্থিতিই বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিপক্ষের সরে দাঁড়ানো, নিষেধাজ্ঞা কিংবা অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে কয়েকটি দল পেয়েছে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ওঠার সুযোগ।
ফুটবল ইতিহাসের এমন কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনাই আজও কৌতূহল ও বিস্ময়ের জন্ম দেয়।
বিশেষ করে ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগে তৈরি হয়েছিল এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা স্কটল্যান্ড ও তুরস্ক শেষ মুহূর্তে নিজেদের অংশগ্রহণ বাতিল করে। এতে খালি হওয়া স্থান পূরণে ফিফা বিকল্প দল খুঁজতে শুরু করে।
আরও পড়ুন : জুতা থেকে উন্মোচিত রহস্য: রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিটে উঠে এলো নৃশংস বর্ণনা
পরবর্তীতে ফ্রান্স, পর্তুগাল এবং রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ফ্রান্স শুরুতে আগ্রহ দেখালেও পরে দীর্ঘ যাত্রা ও দূরত্বজনিত সমস্যার কথা উল্লেখ করে তারাও অংশগ্রহণ থেকে সরে যায়।
একই আসরের বাছাইপর্বেও দেখা যায় অদ্ভুত কিছু ঘটনা। অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়ামের সরে যাওয়ার পর সুইজারল্যান্ড ও তুরস্ক খুব বেশি প্রতিযোগিতার মুখে না পড়েই মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করে।
ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলেও ছিল একই চিত্র। আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর ও পেরু অংশগ্রহণ না করায় চিলি, বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে প্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায়।
“এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, কখনো কখনো ফুটবলে যোগ্যতার পাশাপাশি পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখে। অন্য দলের অনুপস্থিতি বা সরে দাঁড়ানোই কারও জন্য খুলে দেয় বিশ্বকাপের মঞ্চ।”
ফুটবলের ইতিহাসে বহুল আলোচিত ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল মাত্র ১৩টি দল নিয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে অগোছালো ও ব্যতিক্রমী আসরগুলোর একটি হিসেবে সেটি এখনো আলোচিত।
ফুটবলের সৌন্দর্য শুধু মাঠের গোল বা রোমাঞ্চে নয়, এর ইতিহাসেও লুকিয়ে আছে এমন সব অপ্রত্যাশিত গল্প যেখানে কখনো ভাগ্যই লিখে দেয় বিশ্বকাপে যাওয়ার পথ।