বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ফল উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত জুলাই ডকুমেন্টারিতে ছবি না থাকায় ক্ষোভ, উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠান বয়কট ছাত্রদলের একাংশের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো গবেষণা প্রকল্প ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেমিনার জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর মোজাফফরের বিচার হবে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি স্বর্ণ বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ৪০০ ড্রোন দিয়ে রাশিয়ায় হামলা ইউক্রেনের এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা চালু করল সৌদি আরব সারাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা হত্যা-লুট-সংঘর্ষ-পুড়িয়ে দেওয়ার রাজনীতি চায় না

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৫ মোট ভিউ

সম্প্রতি চট্রগ্রাম সিটি কলেজসহ কয়েকটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।  এ ঘটনার পরপরই দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও ছাত্ররাজনীতি এসেছে। পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের যে সংস্কৃতি তৈরি করেছিল তা আর চায় না তারা। পূর্বে হত্যা-লুট-সংঘর্ষ-পুড়িয়ে দেওয়ার সংস্কৃতিতে ক্যাম্পাসে পড়ালেখার ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। নতুন করে পুরনো ধাঁচের সংস্কৃতি শুরু হওয়া নিয়ে শঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৫ সালে ছাত্রদলের অন্তর্কোন্দলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম লিটন নামের এক নেতা নিহত হন। ২০১৩ সালে হলগুলোতে অস্ত্রেরমুখে শিবিরকে বের করে কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রলীগ। একইসময়ে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ক্যাম্পাসের একাডেমিক কাজেও প্রভাব পড়ে। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৪ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন চন্দ্র দাস নামে এক বহিরাগত কর্মী নিহত হন। এ কারণে ক্যাম্পাস প্রায় ছয়মাসের অধিকসময় বন্ধ থাকে।

পাশাপাশি ৫ আগস্টের পূর্বে ক্ষমতাসীন সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের মধ্যে তিনশয়ের অধিক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তুচ্ছ ঘটনায় এসব সংঘর্ষে অনেকের শিক্ষাজীবনে প্রভাব পড়েছে। তাই ক্যাম্পাসের বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শাবিপ্রবি পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী মুহয়ী শারদ বলেন,‘জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা এমন একটি ক্যাম্পাসের স্বপ্ন দেখি, যেখানে কোনো রাজনৈতিক হানাহানি থাকবে না, অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাবে না এবং কাঁদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি বন্ধ থাকবে। গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি কেউ ফিরানোর চেষ্টা করবে না। যদি কেউ নিজেদের ‘মাদার পার্টির’ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তাহলে শাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এর সঠিক জবাব দিবে। কারণ দিনশেষে এইসকল সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরাই।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তরা ইবনাত সিদ্দিকা শ্রেয়া বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে এমন রাজনৈতিক কালচার দেখতে চাই যেখানে ছাত্রসংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধি করতে, তাদের যেকোন সমস্য সমাধান করতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে একজোট হয়ে কাজ করবে। তারা কোন ধাঙ্গা হাঙ্গামায় জাড়িয়ে পড়বে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ কার্যকর হলে ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতির সৌন্দর্য বাড়বে।’

শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেরকম সৌহার্দপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চায় সেই অনুযায়ী আমরা শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে কাজ করে করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব। কেউ যদি নোংরা রাজনীতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের অকল্যাণ করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করব।’

শাবিপ্রবির ছাত্রশিবিরের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যানের জন্য কাজ করেছি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে অতীতে ছাত্রলীগ যে রকম ক্ষমতার অপচর্চা করতো বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের কেউ কেউ একই পথে হাটছে। আমরা হল দখল, হানাহানি, সংঘর্ষ, দমনপীড়নের রাজনীতি আর চাই না। ক্যাম্পাসে যদি কেউ সহিংস কাজ করতে চায় সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরাই যোগ্য জবাব দিবে।’

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital