সামান্য কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রদল নেতার বাবার ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনায় নগদ অর্থ ও মালামাল লুটেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে এলাকার কয়েকজন জুনিয়র ছেলের মধ্যে সামান্য বাকবিতণ্ডা ও ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হয়। তবে সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ব্যবসায়ী রেজাউলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাতেন ফকির, জুয়েল ফকির, জুলহাস ও রবিউল ফকিরের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল রেজাউলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং মৃত ভেবে পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন রেজাউলকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ সময় হামলাকারীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
হামলায় আহত রেজাউলের ছেলে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছাত্রদল নেতা অন্তু বলেন, “আমার বাবাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। যারা হামলা করেছে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন, মাদক ব্যবসা, নদী দখল, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি। তবে ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।