ভারতের পারমাণবিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রথমবারের মতো ভারত ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেডকে ‘অপারেশনাল মোতায়েন’ অবস্থায় রেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতদিন ভারত তার পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র বা ব্যবস্থাকে আলাদা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করত। অর্থাৎ শান্তিকালীন সময়ে অস্ত্র ও লঞ্চার একত্রে রাখা হতো না। তবে নতুন পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, এই নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে এবং কিছু অস্ত্র এখন কার্যকর মোতায়েন অবস্থায় রয়েছে।
সিপ্রি আরও জানিয়েছে, অপারেশনাল মোতায়েনের এই ধারণা মূলত সেই অবস্থাকে বোঝায় যেখানে পারমাণবিক ওয়ারহেড সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র, নৌবাহিনী বা কৌশলগত ঘাঁটিতে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়। এতে সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কিছু পারমাণবিক ওয়ারহেড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনে (এসএসবিএন) সংযুক্ত করা হয়েছে এবং সমুদ্রভিত্তিক টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থল ও নৌ দুই ধরনের বাহন ব্যবস্থায় কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন :হরমুজে ট্রানজিট ফি বসানোর পরিকল্পনা ইরান ও ওমানের, আপত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ
সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০টি ওয়ারহেডে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশপথে ব্যবহৃত বোমা এবং সাবমেরিনভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ কাঠামোর অংশ হিসেবে সংরক্ষিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে ধারণা ছিল ভারত শান্তিকালীন সময়ে ওয়ারহেডগুলো লঞ্চার থেকে আলাদা রাখে। তবে ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও সমুদ্র টহলের সাম্প্রতিক সম্প্রসারণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কিছু অস্ত্র হয়তো এখন লঞ্চারের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় রাখা হচ্ছে।
তবে ভারতের পারমাণবিক নীতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা প্রথমে ব্যবহার না করার নীতির মধ্যেই রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত কেবলমাত্র পারমাণবিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিপ্রির এই পর্যবেক্ষণ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। যদিও ভারত তার পারমাণবিক সক্ষমতাকে প্রতিরোধমূলক বলেই দাবি করে আসছে, তবুও নতুন মোতায়েন সংক্রান্ত ইঙ্গিত সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বাড়ার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া