শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারলেন না ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধান ৩০ বছর জেল দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন লালমনিরহাট সীমান্তে কড়া নজরদারি, বিজিবির সঙ্গে মাঠে স্থানীয়রাও চীনের মতো এগোতে হলে নিজেদেরই বদলাতে হবে: মির্জা ফখরুল অটো লগআউটের বিভ্রাটে ফেসবুক-মেসেঞ্জারের কোটি ব্যবহারকারী বাগাতিপাড়ায় জনকল্যাণে সহায়তার হাত প্রসারিত করলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উদ্ভাবনী ধারণা,গবেষণা এবং স্টার্টআপ অনুষ্ঠিত। পঞ্চগড়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা : কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ পঞ্চগড়ে ইউ-ড্রেন ভাঙায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

জনপ্রতিনিধি হয়েও শ্রমিকের জীবন সিংড়ার ইউপি সদস্য মেরাজের

নাটোর (সিংড়া) প্রতিনিধি: আশরাফুল সরদার
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৪৬ মোট ভিউ

 

 

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর বাহাদুরপুর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য (মেম্বার) মেরাজুল ইসলাম মেরাজ জীবিকার তাগিদে জনপ্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি কৃষিশ্রমিক ও গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এলাকার জনগণের ভোটে সদস্য নির্বাচিত হন মেরাজুল ইসলাম মেরাজ। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে সঠিকভাবে বিতরণ এবং সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করে আসছেন।

 

মেরাজুল ইসলামের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় একজন সৎ ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত তিনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ আলী বলেন, “আমার দেখা মেরাজ মেম্বার একজন ব্যস্ত ও জনসেবামুখী মানুষ। এলাকার মানুষের জন্য সবসময় কাজ করেন।”

 

আরেক বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “কেউ বিপদে পড়লে সবার আগে মেরাজ মেম্বারকে পাশে পাওয়া যায়। মানুষের ডাকে তিনি সবসময় সাড়া দেন।”

 

এ বিষয়ে মেরাজুল ইসলাম মেরাজ বলেন, “আমার নিজের কোনো আবাদি জমি নেই। শুধু মেম্বারি করে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। সংসারের প্রয়োজনে অনেক সময় ধার-দেনা করতে হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে সম্মানী ভাতা পাই, তা দিয়ে হাতখরচও ঠিকমতো চলে না। বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যক্তিগত খরচও করতে হয়। তিন মাস পর পর উপজেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৭০০ টাকা ভাতা পাই, যা দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচও মেটানো কঠিন।”

 

জীবিকার প্রয়োজনেই কৃষিকাজের পাশাপাশি গার্মেন্টসে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মেম্বারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই মানুষের কৃষিকাজ করি। আর যখন কৃষিকাজ থাকে না, তখন গার্মেন্টসে কাজ করি। আগে গার্মেন্টসে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, সেটাই কাজে লাগাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে যেভাবে পারছি সংসার চালাচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাই।”

 

স্থানীয়দের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও জীবিকার জন্য শ্রমজীবী মানুষের মতো কাজ করে যাওয়া মেরাজুল ইসলামের সংগ্রামী জীবন বাস্তবতার এক অনন্য উদাহরণ।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital