খান বাহাদুর নবাব খাজা আহসানুল্লাহ’র জীবন ও কর্ম শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা সভা আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের লাইব্রেরী কক্ষে বেলা ৩.০০টায় অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সাবেক কীপার অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর, খান বাহাদুর নবাব খাজা আহসানুল্লাহ’র কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। খান বাহাদুর নবাব খাজা আহসানুল্লাহ ছিলেন একাধারে সমাজসেবক, সাহিত্যিক, শিক্ষানুরাগী ও দানবীর। তিনি ঢাকার সৌন্দযবর্ধনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় বিজলি বাতি সংযোজন করেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার জনাব আসমা ফেরদৌসি নবাব খাজা আহসানুল্লাহ’র শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান তুলে ধরেন। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম তাঁর আলোচনায় নবাব খাজা আহসানুল্লাহ’র জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “নবাব আমাদের শিখিয়ে গেছেন আমাদের সম্পদ ও ক্ষমতা মানুষের সাহায্যে বিতরণ করতে।”
কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, নবাব খাজা আহসানুল্লাহ প্রতিবছর নিজ খরচে দরিদ্র ৪০জন মানুষকে পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য হজ্জে প্রেরণ করতেন।
আরও পড়ুন :সিরাজগঞ্জে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০টি অবৈধ স্থাপনা
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব দীপংকর বিশ্বাস বলেন, নবাব খাজা আহসানুল্লাহ এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য ছিলেন এজন্য আমরা তাঁকে নবাব হিসেবে নয় একজন জনহিতৈষি, লেখক ও সৃজনশীল গবেষক হিসেবে স্মরণ করছি।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ও সেমিনারের সভাপতি তানজিম ওয়াহাব তাঁর সভাপতির বক্তব্যে নবাব খাজা আহসানুল্লাহ-কে একজন কালজয়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি নবাব খাজা আহসানুল্লাহ’র জীবন থেকে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও আশা ব্যক্ত করেন যেন সকলে একত্রে কাজ করে জাদুঘরকে আমরা এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি যেখানে দর্শকরা জাদুঘরে প্রবেশ করবে দর্শক হিসেবে কিন্তু গবেষক হিসেবে বেড়িয়ে যাবে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের কীপার (রুটিন দায়িত্ব) মো. সুলতান মাহমুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের উপ-কীপার দিবাকর সিকদার।