নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মার চর নওসারা-সুলতানপুর এলাকায় এক কৃষকের স্বপ্নের পেঁপে বাগান রাতের আঁধারে ধ্বংস করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বাগানের প্রায় ৯৫০টি পেঁপে গাছ কেটে ফেলে রাখার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নওপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে নাজমুল আলী। ঘটনার পর বুধবার (১০ জুন) লালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক একর জমির ওপর গড়ে ওঠা পেঁপে বাগানের গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। অনেক গাছে ফল ধরেছিল এবং সেগুলোও মাঠজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই বাগানের পেঁপে বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে উঠত বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন কৃষক নাজমুল আলী। কিন্তু দুর্বৃত্তদের এমন নৃশংসতায় তার সব আশা-ভরসা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।
স্থানীয় এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষের সঙ্গে মানুষের বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু গাছের সঙ্গে শত্রুতা কেন? যারা এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে অন্য কৃষকরাও ঝুঁকিতে পড়বেন।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বড় ভাই রায়হান আলী জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ধারদেনা করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তারা পেঁপে বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বলেন, “এই বাগানই ছিল আমাদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। আর কিছুদিন পর ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের আশা ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা সব গাছ কেটে দিয়ে আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা কীভাবে ঋণ শোধ করব, সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”