সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কথিত পুশ ইন প্রচেষ্টা প্রতিরোধে লালমনিরহাট সীমান্তজুড়ে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পাশাপাশি আনসার সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার এবং কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তের কোথাও সন্দেহজনক গতিবিধি বা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিলে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় জনগণ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
গত এক সপ্তাহে লালমনিরহাট জেলার চারটি সীমান্ত পয়েন্টে অন্তত আট দফা পুশ ইন চেষ্টার ঘটনা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর ও দীঘলটারী সীমান্ত বর্তমানে সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এসব সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
দীঘলটারী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা খয়বর আলী বলেন, “ভারতে আমাদের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। বিএসএফ যখন সীমান্তে লোকজন নিয়ে আসে, তখন আমরা বিজিবিকে খবর দিই।” তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে রাতের টহলেও অংশ নিচ্ছেন।
আরো পড়ুন:চীনের মতো এগোতে হলে নিজেদেরই বদলাতে হবে: মির্জা ফখরুল
আরেক বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম বলেন, “বিজিবির তৎপরতা অনেক বেশি। তারা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন।” সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সীমান্ত টহলে অংশ নেওয়া আনসার সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত টহলে অংশ নিতে পেরে আমি গর্ববোধ করি।” তিনি জানান, বিজিবির অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে পুশ ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে তারা জিরো লাইন অতিক্রম না করেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগণ ও আনসার সদস্যদের সহযোগিতার ফলে বিজিবির নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।