শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারলেন না ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধান ৩০ বছর জেল দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন লালমনিরহাট সীমান্তে কড়া নজরদারি, বিজিবির সঙ্গে মাঠে স্থানীয়রাও চীনের মতো এগোতে হলে নিজেদেরই বদলাতে হবে: মির্জা ফখরুল অটো লগআউটের বিভ্রাটে ফেসবুক-মেসেঞ্জারের কোটি ব্যবহারকারী বাগাতিপাড়ায় জনকল্যাণে সহায়তার হাত প্রসারিত করলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উদ্ভাবনী ধারণা,গবেষণা এবং স্টার্টআপ অনুষ্ঠিত। পঞ্চগড়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা : কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ পঞ্চগড়ে ইউ-ড্রেন ভাঙায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১৭ মোট ভিউ

 

 

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, অস্বাভাবিক উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরতে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা নয়টি এনবিএফআইয়ের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্সকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতার প্রমাণ দিতে না পারলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। প্রথম ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে। এরপর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দেনা মূল্যায়ন করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

 

 

আরো পড়ুন:আগামীকাল মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ, এক নজরে পুরো বিশ্বকাপের সময়সূচি

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

উচ্চ খেলাপি ঋণ, তীব্র তারল্য সংকট এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা মূল্যায়নের মাধ্যমে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ধারাবাহিক পর্যালোচনা শেষে এখন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের পর বছর অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ এবং বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে আলোচিত পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital