জরুরি মুহূর্তে রক্তের অভাব দূর করতে এবং রক্তদাতার সন্ধানে ভোগান্তি কমাতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) তিন শিক্ষার্থী। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা তৈরি করেছেন ‘ব্লাডরিচ’ (BloodReach) নামের একটি ওয়েব অ্যাপ, যা রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে।
এই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন ইসলাম, ফারহানা আক্তার ইশা এবং মো. তৌফিক হোসেন শিমুল। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে গত ৩ জুন ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় ব্লাডরিচ। বর্তমানে ৩৭ জন স্বেচ্ছাসেবী এর কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্লাডরিচের ধারণাটি আসে প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসিন ইসলামের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে। কলেজ জীবন থেকেই তিনি নিয়মিত রক্তদাতা ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। রক্তের প্রয়োজন হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে নির্ভর করতে গিয়ে তিনি দেখেন, জরুরি সময়ে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সমস্যার সমাধান করতেই শুরু হয় ব্লাডরিচের যাত্রা।
প্রথমে একটি গুগল শিটে রক্তদাতাদের তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর চালু করা হয় ব্লাডরিচের ফেসবুক পেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনায় এবং নিজেদের অর্থায়নে ধীরে ধীরে তৈরি করা হয় পূর্ণাঙ্গ ওয়েব অ্যাপটি।
আরো পড়ুন:
নাটোর জেলা ট্রাফিক অফিস আকস্মিক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার
ব্লাডরিচের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হয় না। ব্যবহারকারীরা ব্লাড গ্রুপ ও অবস্থান অনুযায়ী দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে নিতে পারেন এবং অ্যাপ থেকেই সরাসরি ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া একজন রক্তদাতা রক্ত দেওয়ার পর তাঁর প্রোফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার মাসের জন্য গোপন হয়ে যায়, যাতে ওই সময়ে তাঁকে অপ্রয়োজনীয় কলের সম্মুখীন হতে না হয়।
এছাড়া গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সহজে নিবন্ধন, জরুরি রক্তের অনুরোধ পোস্ট করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে।
উদ্যোক্তারা জানান, কোনো বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত হচ্ছে এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার পাশাপাশি একটি মোবাইল অ্যাপ চালু এবং বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিত সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
bloodreach.com এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ ও একটি গুগল অ্যাকাউন্ট থাকলেই যে কেউ এখন যুক্ত হতে পারবেন জীবন বাঁচানোর এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।