বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব, জাতীয় অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি পলিসি ডিবেট। বিতর্কে চুক্তিটি বাতিলের প্রয়োজনীয়তা ও এর বিপরীত অবস্থান নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তি-প্রতিযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জবি শাখার উদ্যোগে ‘এই সংসদ মনে করে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির সময়কালেই বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের উচিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ বাতিল করা’ শীর্ষক এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব। মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ও গবেষক মাহা মীর্জা। প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ।
বিতর্কে সরকারি দলের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওমর ফাহমিদ খান, আমরিন বিনতে ইসলাম ও তাসমিয়া তাহমিদ আপন। অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষে অংশ নেন মার্জিয়া মিম, মাহমুদুল হাসান তুষার এবং আবু সুফিয়ান নাহিদ। উভয় পক্ষই চুক্তির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
বিতর্ক শেষে বক্তব্যে মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তা জুলাই সনদের চেতনার পরিপন্থী। এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন।”
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, “নির্বাচনের অল্প সময় আগে সম্পাদিত এ চুক্তি দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পখাতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।” তিনি চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
সমাপনী বক্তব্যে শিক্ষক ও গবেষক মাহা মীর্জা বলেন, “বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনপরিসরে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের শিল্প, কৃষি ও উৎপাদন খাতের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।”
আয়োজকরা জানান, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনার পরিবেশ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।