শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
Manarat Invitational- Chapter One এ বিজয়ী জবি ডিবেটিং সোসাইটির টিম ‘একাত্তরের গণহত্যা’ জবি মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে আরিফুল-শাকিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ–২০২৬ ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা সৈকতকে কুপিয়ে হত্যা জুলাই সনদের পথ ধরেই হাঁটবে সরকার: আইনমন্ত্রী তিন বন্ধুর হাত ধরে মফস্বলে স্বপ্নের দিগন্তে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’ সিংড়ার সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বানরীপাড়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নীলফামারীতে এনডিইএ’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ২১ শে আগস্ট উপলক্ষে জবিতে ব্যানার দিয়ে উপস্থিতি জানান দিল ছাত্রলীগ

সুপ্রিম কোর্টে হেরে গেলেন ট্রাম্প, নারী সাংবাদিককে দিতে হবে ৫ মিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ১৭ মোট ভিউ

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা আপিল আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে নারী সাংবাদিক ই জিন ক্যারলকে পাঁচ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি ৬২ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাকে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানায়, যেখানে তিনি যৌন নিপীড়ন ও মানহানির অভিযোগে ক্যারলের পক্ষে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এর ফলে ২০২৩ সালে দেওয়া পাঁচ মিলিয়ন ডলারের রায় কার্যকর থাকছে।

ক্যারল ২০১৯ সালে প্রথম ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরে ২০২২ সালে নিউইয়র্কে একটি নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর তিনি আবার মামলা করেন। ওই আইনের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা পুরোনো ঘটনার জন্যও দেওয়ানি মামলা করার সুযোগ পান।

 

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বাড়ল তেলের দাম

 

অদ্ভুত আইনি পরিস্থিতির কারণে ২০২২ সালের মামলাটিই আগে আদালতে যায়। সেই মামলায় জুরি বোর্ড ক্যারলের পক্ষে রায় দিয়ে ট্রাম্পকে পাঁচ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মানহানির মামলার বিচার হয় এবং সেই মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৮৩ মিলিয়ন ডলারের রায় দেওয়া হয়। সুদসহ ক্যারলকে ট্রাম্পের মোট পাওনা ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে জানানো হয়েছে।

অভিযোগ ও ট্রাম্পের অবস্থান
ক্যারলের ২০২২ সালের মামলায় অভিযোগ ছিল, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন এবং পরে ঘটনাটি অস্বীকার করে তার মানহানি করেন।

ট্রাম্প শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, মামলার বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক লুইস কাপলান বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিক ভুল করেছেন।

ট্রাম্পের আইনজীবীদের অভিযোগ ছিল, বিচারক এমন দুই নারীর সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন যারা অতীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। পাশাপাশি ২০০৫ সালের ‘অ্যাকসেস হলিউড’ টেপ জুরিদের দেখানোর অনুমতিকেও তারা প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে ট্রাম্পকে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা মামলায় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলস জুরির দেওয়া পাঁচ মিলিয়ন ডলারের রায় বহাল রাখে। আদালত জানায়, বিচারক এমন কোনও ভুল করেননি যার কারণে নতুন করে বিচার প্রয়োজন।

২০২৫ সালের জুনে ট্রাম্প পূর্ণ বেঞ্চে মামলাটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেও ব্যর্থ হন। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেন, একজন দায়িত্বরত প্রেসিডেন্টকে পুরোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে মনোযোগ সরাতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং এটি প্রেসিডেন্ট পদের প্রতি ক্ষতিকর।

তবে ক্যারলের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, দ্বিতীয় সার্কিট আদালতের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং জুরি যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই রায় দিয়েছে।

দ্রুত অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা
জুরি রায় দেওয়ার পর ২০২৩ সালে ট্রাম্প ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আদালতের নিয়ন্ত্রিত একটি হিসাবে জমা করেছিলেন। ফলে ক্যারল তুলনামূলক দ্রুত এই অর্থ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া ৮৩ মিলিয়ন ডলারের রায়ের বিষয়টি এখনও সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা শিগগিরই ওই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করতে পারেন বলে জানা গেছে। সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital