জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সভাকে ঘিরে উদ্ভূত ঘটনাপ্রবাহের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মানহানি এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিক। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনগত বিচার দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন অনিক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ২৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির প্রথম সভায় গঠনতন্ত্র প্রণয়নকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিষয়টির সমাধান হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সাংবাদিক বহিরাগত এনে হামলা, দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেন বলে তিনি দাবি করেন।
অনিক বলেন, ঘটনার পর তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এরপর তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা বক্তব্য না নিয়েই তাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং পরিকল্পিতভাবে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কয়েকজন সদস্য এবং কয়েকজন সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ, ফটোকার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, পরদিন বিকেলে ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা চন্দন ও শুভর বাসায় হামলার ঘটনা ঘটে এবং এ বিষয়ে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অনিক বলেন, “আমি একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। কিন্তু কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থে বা অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে এ পেশাকে ব্যবহার করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং অতীতেও রাজনৈতিক কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিয়ান বিন হক অনিক।