জুলাই গণহত্যার বিচার ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কফিন মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
কফিন মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া ও ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল চলাকালে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল- ‘বিচার বিচার বিচার চাই, আওয়ামী লীগের বিচার চাই’, ‘জুলাইয়ের শহীদেরা, লও লও লও সালাম’ এবং ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’।
আরও পড়ুন:
আমেরিকাকে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে ২৯ দেশ নিয়ে চীনের নতুন ‘এআই জোট’
এসময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেগুলোর মধ্যে ছিল-‘গণহত্যার বিচার চাই’, ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে’ এবং ‘সাঈদ-ওয়াসিম-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ লেখা প্ল্যাকার্ড।
সংহতি সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদদাসসির চৌধুরী বলেন, ১৭ জুলাই ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এর ফলে প্রতিটি ক্যাম্পাস একেকটি প্রতিরোধের দুর্গে পরিণত হয়েছিল। সেই আন্দোলনের চেতনা এখনো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, জুলাইয়ের রক্তস্নাত ইতিহাস ও আত্মত্যাগ স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তার মতে, জুলাই আন্দোলন দেশের মানুষকে নতুন পথ দেখিয়েছে এবং বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিব আল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নাঈম আবেদিন, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন খান এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।