জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে মধ্যরাতের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়েরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী হাসনান আল সাবিত (সাবায়েত)-এর বিরুদ্ধে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিভ ইনে থাকা বহিরাগত নারীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শের আলী। এছাড়াও সাবায়েতের বিরুদ্ধে সবেক ছাত্রলীগের সম্পৃক্তারও অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শের আলী এসব দাবি করেন।
তিনি জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে বাইক রাখতে গেলে এক বহিরাগত ছেলে ও এক বহিরাগত মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিচয় জানতে চাইলে সাবায়েত এসে ওই নারীকে তার বাগদত্তা এবং ছেলেটিকে ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় সাবায়েত তাকে ধাক্কা দেন বলে তিনি দাবি করেন।
শের আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাবায়েত ও ওই নারী নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং অকথ্য ভাষায় চিৎকার করছিলেন। উপস্থিত কয়েকজন তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বললে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করে ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার একটি চায়ের দোকানে যান। পরে সেখানে সাবায়েত এসে তাকে হুমকি দেন এবং হাতাহাতির একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে তার টি-শার্ট ছিঁড়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া শের আলী আরও দাবি করেন, সাবায়েত পার্ক এলাকার কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ক্যাম্পাসে মাদক সেবন করেন এবং ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি রাতের বেলায় বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংবাদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জবি শাখার নেতৃবৃন্দের সাথেও সাবায়েতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো এবং তিনি সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সম্প্রতি, জবির সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজীর সাথেও সাবায়েতের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে লিখিত অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে সাবায়েত জানান, তার ছোট ভাই জায়েন ৪০ দিনের চিল্লা শেষ করে গুলিস্তান কেন্দ্রীয় মসজিদে এলে তিনি ও তার বাগদত্তা দিঘী তাকে রিসিভ করেন। জায়েন প্রথমবার ঢাকায় আসায় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেখতে চাওয়ায় তারা রাতে ক্যাম্পাসে যান। সেখানে অবস্থানকালে সাবায়েত ও দিঘীর মধ্যে সামান্য মনোমালিন্য হলে দিঘী একা চলে যেতে চাইলে জায়েন তাকে একা যেতে নিষেধ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শের আলী ও আবিদ হাসান বাধন মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে এসে কোনো ধরনের কথা না বলেই জায়েনকে মারতে উদ্যত হন। দিঘী তাদের জানান, জায়েন সাবায়েতের আপন ছোট ভাই এবং প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসে এসেছে। এরপরও শের আলী তাকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সাবায়েত দাবি করেন, খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে শের আলীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। উপস্থিত কয়েকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে আসেন। কিন্তু ক্যাম্পাসের সামনে ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে আবারও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে শের আলী আরও ৫ থেকে ৬ জনকে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে ২০তম আবর্তনের রাব্বি, শাওনসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তারা সবাই মিলে সাবায়েতকে মারধর করেন। এ সময় একটি বন্ধ চায়ের দোকানের বেঞ্চের নিচ থেকে পেরেকযুক্ত কাঠের টুকরো বের করে শের আলী সাবায়েতকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার পিঠ, গলা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
একই ঘটনায় দিঘী অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং পেরেকযুক্ত কাঠ হাতে নিয়ে একাধিকবার তার দিকে তেড়ে এসে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তার ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং ঘটনাস্থলে তিনি চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “সাবায়েত আমাদের কাছে আজকে অভিযোগ জমা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ উভয় পক্ষের সার্বিক ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”