টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ে লক্ষ্যে বিশ্বকাপের ফাইনালের মহারণে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। এবারের আসরে দলটি অপ্রতিরাধ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এর পেছনে ত্রাতা হিসেবে ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার মেসি।
বর্তমানে আটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে গোলসংখ্যাও আটটি, তবে অ্যাসিস্টের দিক থেকে মেসির চেয়ে একটি কম থাকায় তিনি আপাতত পিছিয়ে আছেন।
স্পেনের কাছে হেরে ফ্রান্সের ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙলেও এমবাপের সামনে এখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি বাকি রয়েছে। সেই ম্যাচে ফরাসি সুপারস্টার যদি অন্তত একটি গোল করতে পারেন এবং মেসি যদি স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে গোল করতে ব্যর্থ হন, তবে গোল্ডেন বুট চলে যাবে এমবাপের ঝুলিতে।
এদিকে এবারের ফাইনালটি কেবল শিরোপার ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না, বরং খুব সম্ভবত ব্যালন ডি’অর জয়ী কে হবেন, তাও ঠিক করে দেবে। এবারের লড়াইটি বেশ উন্মুক্ত এবং চলতি আসরে শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। স্পেন ও আর্জেন্টিনা শিরোপার জন্য লড়ছে, তাই ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটির বিজয়ী এই দুই দলের যেকোনো একজনের হাতে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:
শিক্ষার প্রসারে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা ফিফার
এক্ষেত্রে লিওনেল মেসি যদি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতেন, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে প্রধান দাবিদার হয়ে উঠবেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস শিরোপাসহ অন্যান্য অর্জনের পাশাপাশি তিনি দেশটির হয়ে আরেকটি ঐতিহাসিক অর্জন তার ঝুলিতে যুক্ত হবে।
ইতোমধ্যেই ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের একটি বার্তা তার দাবিকে আরও জোরালো করেছে। ফাইনালের আগে হাতে থাকা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই অ্যাকাউন্টটি ভক্তদের মনে করিয়ে দিয়েছে, ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবে খেলা খেলোয়াড়ও এই পুরস্কারটি জেতার যোগ্য।
তবে ফাইনালে স্পেন যদি জয়ী হয় তবে পরিস্থিতি অনেক বেশি অস্পষ্ট হয়ে পড়বে। বর্তমানে দ্বিতীয় দাবিদার হিসেবে বিবেচিত লামিন ইয়ামাল লিগ শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপও জিতলে জোরালো দাবিদার হয়ে উঠবেন। এছাড়াও দার সতীর্থ রদ্রি আন্তর্জাতিক ভোটারদের কাছে যার অবস্থান অত্যন্ত উঁচুতে, তিনিও আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে আসবেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিস এবং উসমান দেম্বেলের মতো খেলোয়াড়দের ব্যালন ডি’অর জয়ের বাস্তবসম্মত সুযোগ তখনই তৈরি হবে, যদি ফাইনালে মেসি ও আর্জেন্টিনা পরাজিত হয়। ইউরোপের বাইরের খেলোয়াড়দেরও পুরস্কারটি জেতার সুযোগ থাকার বিষয়ে ব্যালন ডি’অর অ্যাকাউন্টের সেই বার্তাটি এই ধারণাকে আরও দৃঢ় করেছে। এক্ষেত্রে মেসির নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
One thought on "নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে মেসি"
Comments are closed.