আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৫ নম্বর চামারী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা না করলেও ভোটারদের কাছে যেতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, হাট-বাজারে প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরায় ইতোমধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন।
সরেজমিনে ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি থেকে এবার চেয়ারম্যান পদে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক ইউনিয়ন বিএনপি নেতাসহ তরুণ নেতৃত্ব। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান ও চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শেখ রাশিদুল ইসলাম বলেন, অতীতে চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। পুনরায় নির্বাচিত হলে চামারী ইউনিয়নকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুলতান আহমেদ বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন তাঁর অগ্রাধিকার। নির্বাচিত হলে আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে কাজ করবেন।
চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করবেন।
সাবেক ছাত্রদল নেতা আবু তাহের বলেন, চামারী ইউনিয়নকে স্মার্ট ইউনিয়নে রূপান্তরের পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ, খেলাধুলার প্রসার এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করতে চান।
সাবেক বিএনপি নেতা ও সমাজসেবক জোবায়ের হোসেন বলেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকাই তাঁর মূল লক্ষ্য। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন।
চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ইউনিয়নের বাজার, রাস্তাঘাট ও কর্মসংস্থান উন্নয়নে কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
চামারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আশরাফুল সরদার বলেন, ইউপি সদস্য হিসেবে মানুষের সেবা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পরিষদের বরাদ্দের সুষ্ঠু বণ্টন, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরনবী ফারুক (তারা)-ও দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আসতে পারেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অধ্যাপক আব্দুর রউফকে ৫ নম্বর চামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, এবার তারা সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত এবং জনবান্ধব একজন চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চান। তাদের প্রত্যাশা, নতুন চেয়ারম্যান ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, শিক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খেলাধুলার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছ বণ্টনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
তবে নির্বাচন কমিশন এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। এর আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা ও জনসংযোগে চামারী ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে।