ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন অবস্থায় শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানের নাম আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দেননি তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান (বর্তমানে কারাগারে)।
ত্বকীর মা রওনক রেহানা বলেন, ত্বকী নিখোঁজের পরদিন ৭ মার্চ তার ‘এ লেভেল’ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়েছিল যা ছিল সারা দেশে সর্বোচ্চ। ‘ও লেভেল’ পরীক্ষাতেও পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে দেশে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল। তাকে ‘এ লেভেল’ শেষে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশের প্রতি গভীর টান থাকায় সে দেশ ছাড়ার কথা ভাবেনি।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল বলেন, ১০১তম ধার্য তারিখেও অভিযোগপত্র জমা না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে আদালত। কেন বিচারকাজ শুরু হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। বর্তমান সরকারের উচিত দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।
র্যাব-১১-এর বর্তমান অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
এদিকে ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ১৩ বছর ধরে আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ। ১৩ বছরেও বিচার শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তাঁরা দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ডা. সারোয়ার আলী, অধ্যাপক আহমেদ কামাল, ড. শাহদীন মালিক, সুলতানা কামাল, মফিদুল হক, অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, অধ্যাপক শফি আহমেদ, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, শহিদুল আলম, খুশি কবির, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. লেনিন চৌধুরী, সোহরাব হাসান, কফিল আহমেদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ড. সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অরূপ রাহী, কৃষ্ণকলি ইসলাম ও ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ত্বকী হত্যাকাণ্ড দেশব্যাপী যে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল, তা সমাজে সুশাসন ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। ১৩ বছর পরও বিচার না হওয়া গভীর উদ্বেগের। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রæত বিচার শুরুর জোর দাবি জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, ১৩ বছর পূর্তিতে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ। ৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর সিরাজ শাহর আস্তানায় ত্বকীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া ১৪ মার্চ বেলা আড়াইটায় ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ‘ত্বকী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কথা, গান, নাটক ও ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে।