ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্থানীয় কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ ও প্রভাবশালী চক্রের হাতে এক কাগজ ব্যবসায়ী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মোঃ রফিকুল ইসলাম (৫৩)। তাকে মারধর, সপরিবারে এলাকাছাড়া করার হুমকি এবং মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, গত ৬ ও ৭ মার্চ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পূর্বপাড়া এলাকায় ‘মদিনা নগর সমাজকল্যাণ সোসাইটি’র কার্যালয়ে চুরির অপবাদে দুই যুবককে আটকে রাখা হয়।
স্থানীয় প্রভাবশালী ইমতিয়াজ আহমেদ শাকিল, মোঃ হালিম মিয়া, জাবেদ মিয়া, সজিব ও আজগরসহ একদল লোক ওই যুবকদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায় এবং তাদের মাথার চুল কেটে দেয়। বাড়ির মালিক হিসেবে রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে এই অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে অনুরোধ করেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, নির্যাতনের শিকার যুবকদের ছাড়িয়ে দেওয়ার নাম করে অভিযুক্তরা ৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে পুলিশের এসআই মনির হোসেন ঘটনাস্থলে এসে জানান যে, ওই যুবকরা চুরির সাথে জড়িত নয়। এরপর অভিযুক্তরা পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রফিকুল ইসলামের কাছে ৫০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২৫ মার্চ দুপুরে রফিকুল ইসলামকে দেশীয় অস্ত্র (লাঠি ও রড) দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আরও পড়ুন : ফটিকছড়ি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সাক্ষাৎ হবে হেফাজত আমিরের সঙ্গে
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এই নির্যাতনের বিচার চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা উল্টো রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। বর্তমানে পুলিশি অভিযানের ভয়ে তিনি এলাকাছাড়া। তার অনুপস্থিতিতে পুলিশ ও অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ে রুবাইয়া ইসলামকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ইমতিয়াজ আহমেদ শাকিলের ইশারায় এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, জমি দখল এবং চাঁদাবাজির মতো অপকর্ম চলে। তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশ তাদের পক্ষ নিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে তিনি নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
One thought on "প্রতিবাদ করে বিপাকে ব্যবসায়ী: কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এলাকাছাড়া পরিবার"
Comments are closed.