এদিন কারাগার থেকে আসামি ইমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।
এদিন কারাগার থেকে আসামি ইমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।
তিনি বলেন, ফ্যাক্টরির স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো কিছুতেই তিনি জড়িত না। ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যাসহ নানা রোগে তিনি ভুগছেন। অসুস্থ বিবেচনায় তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।
এর আগে রবিবার কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে আসামি ইমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আবেদনে আরো বলা হয়, আসামি এই ঘটনার মূলহোতা। তার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে লুকিয়ে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিটি কার্যক্রম চলমান রাখেন। এই কারণে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রফিকুল ইসলাম আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদসহ তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে রহস্য উদঘাটন করা যাবে। সেই সঙ্গে তার সহযোগী এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তার করা যাবে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কেরাণীগঞ্জ থানা এলাকার কদমতলীতে মো. আকরাম উল্লাহ আকরামের মালিকানাধীন মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরীতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ছয়জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জুয়েল রানা বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ ৫/৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ইমান উল্লাহ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম ও তার ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি ইমান উল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আসামি মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম ও আহনাফ আকিফ আকরাম জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে ৮-১০ বছর আগে ফ্যাক্টরিটি পরিচালনা করে আসছে। যেখানে ৫০/৬০ জন শিশু, নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করতেন। একাধিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে ফ্যাক্টরি বন্ধ ও সিলগালা করলেও আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গোপনে চালু করা হতো।
সম্পর্কিত খবর

সোমবার (৬ এপিল) কর্মস্থলে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে আইএলও কনভেনশন ১৯০ বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
কর্মশালাটি আয়োজন করে নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস) এবং এতে সহযোগিতা করে টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (টিজিডব্লিউএফ), ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিডব্লিউইএবি), শিলিড, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এফসিএইচডি) এবং ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি)।
এই কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, আইএলও কনভেনশন ১৯০ সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান, দক্ষ অ্যাডভোকেট তৈরি করা যারা নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে সক্ষম, নাগরিক সমাজ, শ্রমিক সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সংলাপ জোরদার করা, নারীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহিংসতামুক্ত কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা, কনভেনশন ১৯০ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর অ্যাডভোকেসি পরিকল্পনা তৈরি করা।
সমাপনী অধিবেশনে ড. আফরোজা পারভীন তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র কোনো বিলাসিতা নয়,এটি একটি মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে নারীদের জন্য সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কনভেনশন ১৯০ এর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন তার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
ড. সুলতান মুহাম্মদ রাজ্জাক বলেন, এটি শুধু শ্রমিকের বিষয় নয়, এটি মানবাধিকারের বিষয়। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকতে হবে।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এর নির্বাহী সদস্য কাজী দিলরুবা জেফু, এফসিএইচডি এর চেয়ারপার্সন, শাহিদা ওয়াহাব, শিলিড এর নির্বাহী সদস্য সেলিনা আক্তার, ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট এর প্রোগ্রাম অফিসার সেলিনা খাতুন।
বক্তারা বাংলাদেশে নারী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যেমন, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন, মানসিক চাপ ও অপমানজনক আচরণ, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, বেতন বৈষম্য ও বিলম্বিত বেতন ভাতা পরিশোধ, অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা, চাকরির অনিশ্চয়তা ও জোরপূর্বক অতিরিক্ত কাজ, অনানুষ্ঠানিক খাতে আইনি সুরক্ষার অভাব, অনেক নারী শ্রমিক চাকরি হারানোর ভয়ে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে পারেন না।
কর্মশালায় বক্তাদের প্রধান দাবিসমূহ হলো-কনভেনশন ১৯০ দ্রুত বাস্তবায়নের পথ নকশা ঘোষণা করতে হবে, অনানুষ্ঠানিক খাতকে আইনের আওতায় আনতে হবে, কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে, সরকারি আইন অনুযায়ী ডে কেয়ার স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে, হয়রানি ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে কার্যকর অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা বা অ্যান্টি হ্যারাসমেন্ট কমিটি গঠন করতে হবে, নারীদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, দেশব্যাপী সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হবে করতে হবে।

জানা গেছে, ‘ঢাকাস্থ পার্বত্য উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর উদ্যোগে এবং ‘সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-এর সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এবারের মেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্টলে পার্বত্য চট্টগ্রামের টাটকা কৃষিপণ্য, জুম চাষের সবজি, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং পাহাড়ি খাবারের সমাহার থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচ পরিবেশিত হবে।
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব সুবিমল চাকমা বলেন, পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও খাদ্যপণ্যের প্রতি নগরবাসীর ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক দো অং মারমা জানান, মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন থেকে রিকশায় মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে মেলার স্থানটি অবস্থিত। গত বছরের মতো এবারও ব্যাপক সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। মেলায় ‘হেবাং’ রেস্তোরাঁর নানা পাহাড়ি মুখরোচক খাবার থাকবে।
মেলায় অংশ নিয়েছেন পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তা জিলিয়ান তালুকদার। তিনি জানান, তার স্টল ‘কোরিয়ান গ্ল্যাম বাংলাদেশ’-এ পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি কোরিয়ান বিভিন্ন পণ্যও পাওয়া যাবে।

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূতকে পানগাঁও টার্মিনালের বর্তমান সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভুটানের রাষ্ট্রদূতের এই সফর পানগাঁও টার্মিনাল ব্যবহার করে আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সমন্বয় আরো জোরদার করবে।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার গোলাম সারওয়ার, পানগাঁও আইসিটির টার্মিনাল ম্যানেজার আশরাফ করিম চৌধুরী, পানগাঁও কাস্টমস হাউসের কমিশনার বশির আহমেদ, মেঙ্গলস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আনিসুল হকসহ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ
আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ ও সানারপাড়।
অর্ধদিবস বন্ধ যেসব মার্কেট
পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স ও মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট।
One thought on "কেরানীগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে ৩ দিনের মন্জুর"
Comments are closed.