সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করতে আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ভাতার আওতা সম্প্রসারণ এবং দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দ্বিগুণ করার ঘোষণাও দেন তিনি।
শুক্রবার নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে হতদরিদ্রদের মাঝে সাবমার্সিবল পাম্প, কৃষকদের মধ্যে স্প্রে মেশিন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের জন্য কর্মসহায়ক উপকরণ ও বৃত্তি বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই লক্ষ্যে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।”
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণকে অবৈতনিক করা হয়েছে। সকলের সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা সমানভাবে প্রয়োজন।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাদক এবং অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যধির হাত থেকে আমাদের সন্তানকে রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষক এবং অভিভাবকবৃন্দকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।”
তিনি বলেন, “এ দেশে কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ আর অবহেলিত থাকবে না। সরকার নতুন বাজেট দিয়েছে। জনবান্ধব এই বাজেট জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।”
আরো পড়ুন:লালমনিরহাট সীমান্তে কড়া নজরদারি, বিজিবির সঙ্গে মাঠে স্থানীয়রাও
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ফারজানা শারমীন বলেন, “আগামী অর্থ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।” পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ভাতার পরিধি বাড়ানো হবে এবং দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে বিনামূল্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও আদালতে দেওয়ানি-ফৌজদারি মামলার আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশে কোনো মানুষ আর অসহায় থাকবে না।”