দেশে হামের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গে ইতোমধ্যে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের একজন ঢাকা এবং অন্যজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।
ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর মধ্যে জুন মাসেই মারা গেছেন চারজন। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
গত এক দিনে সারা দেশে নতুন করে ২২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৯৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া বরিশালে ৫৪ জন, খুলনায় ৫২ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৯০০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭০৩ জন, যা এ বছরের সর্বোচ্চ মাসিক সংক্রমণ প্রবণতা। এছাড়া জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন এবং মে মাসে ৭১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৭ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু এখন কেবল একটি সাধারণ অসুখ নয়, এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সংকট মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মশার বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। কারণ মশা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে এবং বিভিন্ন উপায়ে মানুষের বসতবাড়িতে প্রবেশ করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, হামের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৮৭ শিশু এবং সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে দেশে মোট ৬৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।