বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ফল উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত জুলাই ডকুমেন্টারিতে ছবি না থাকায় ক্ষোভ, উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠান বয়কট ছাত্রদলের একাংশের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো গবেষণা প্রকল্প ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেমিনার জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর মোজাফফরের বিচার হবে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি স্বর্ণ বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ৪০০ ড্রোন দিয়ে রাশিয়ায় হামলা ইউক্রেনের এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা চালু করল সৌদি আরব সারাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

‘বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে মবের শিকার’, মিটফোর্ড ইস্যুতে জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক হিমেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৮ মোট ভিউ

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসকদের লাঞ্ছনা ও হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। চিকিৎসকদের অভিযোগের বিপরীতে তিনি দাবি করেছেন, রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা উল্টো “মবের শিকার” হয়েছেন এবং ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) অভিযোগ করে, ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি সার্জারি বিভাগের ৪২৯ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এর প্রতিবাদে চার দফা দাবি জানিয়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

 

তবে বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে হিমেল দাবি করেন, পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় একজন রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওহিদুর রহমান নিক্সনের স্ত্রী গুরুতর গাইনি সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় রক্তক্ষরণে ভুগছিলেন। সন্ধ্যা থেকে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অবস্থান করলেও তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল না।

 

হিমেল বলেন, নিক্সনের বড় ভাইয়ের অসহায় আর্তনাদ শুনে রাত প্রায় ১টার দিকে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছে রোগীকে দ্রুত ওয়ার্ডে নেওয়ার অনুরোধ জানান। তার দাবি, চিকিৎসকরা কোনো মানবিক বিবেচনা না করে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং রোগীকে দীর্ঘ সময় মেঝেতে শুইয়ে রাখা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, “আমি জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। আমি পরিচালকের নম্বর চাইলে তারা সেটিও দেয়নি। তখন আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।”

 

হিমেলের দাবি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে সংঘবদ্ধভাবে তার ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে “মব” তৈরি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হল থেকে এনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

তিনি বলেন, “সেখানে অন্য কোনো ঘটনা ঘটেনি। যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেটি আমার বন্ধু নিক্সনের বড় ভাইয়ের অসহায় আর্তনাদের ভিডিও। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট মহল মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া ফটোকার্ড ছড়াচ্ছে।”

 

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “আমি একজন রাজনীতিবিদ হয়ে যদি দীর্ঘদিনের বন্ধু ও কারাবরণ করা রাজনৈতিক সহযোদ্ধার বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে মবের শিকার হই, তাহলে আমি বারবার মবের শিকার হতে রাজি।”

 

অন্যদিকে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ভর্তি ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

 

আইডিএ আরও জানিয়েছে, গত ১ মার্চ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের সব বিভাগে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

 

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আমরা যাওয়ার পর পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়ে গেছে। এ ঘটনার ব্যাপারে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, কিংবা সেখানে অন্য কোনো পক্ষ বসে সমাধান করেছে কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আমরা মূলত ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital