জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত দুই শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটিতে ব্যবহৃত একাধিক বক্তব্যকে সংবাদকর্মীদের প্রতি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সাংবাদিকদের একাংশ।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিক। তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দীর্ঘ এক পোস্টে সংবাদ প্রকাশের সমালোচনা করে কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক, হলুদ সাংবাদিকতা ও পেশার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ “পার পেয়ে যাবে না” বলেও মন্তব্য করেন।
পোস্টের শুরুতেই অনিক লেখেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র জুনিয়র মেইনটেইন এটা বহুদিনের প্রচলিত প্রথা। সিনিয়রদের সাথে ওপেন বেয়াদবি করা কেউ যদি মনে করো সাংবাদিক পরিচয়ে পার পেয়ে যাবে… এখন এগুলো বাদ দাও।”
এরপর তিনি আরও লেখেন, “স্বাধীন পেশাকে যারা কলঙ্কিত করবে। সত্য না ছেপে যারা হলুদ, গুজব এবং মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করবে তাদের ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। নতুন বাংলাদেশে বেয়াদবের কোনো জায়গা নেই।”
সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে অনিক পোস্টে লেখেন, “এখানে নাকি সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলার স্বীকার হয়েছে, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেছে, বহিরাগত এনে আক্রমণ করেছে বলে অগণিত মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা তার ভাষায় “গুরুতর অপরাধ এবং মানহানিকর”।
এক পর্যায়ে তিনি লেখেন, “আমি একজন রানিং শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এখানে জড়িত না হলেও এই ব্যাপারে ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছি। আমি এটা ফেস করবো।” পোস্টের শেষদিকে তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিক পরিচয়ে যদি এই দুঃসাহস দেখায় তাকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।” এবং “আমি এটার শেষ দেখে ছাড়বো।”
অনিকের এই বক্তব্যকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। বিশেষ করে “সাংবাদিক পরিচয়ে পার পেয়ে যাবে না”, “ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না” এবং “আমি এটার শেষ দেখে ছাড়বো”—এ ধরনের মন্তব্য সংবাদকর্মীদের প্রতি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৬ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত এক সভাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত চন্দন কুমার দাস ও অর্ঘ্য শ্রেষ্ঠ দাসের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশ নিয়ে হামলায় জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির এক সদস্যসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নাহিয়ান বিন অনিকের ওই ফেসবুক পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
এদিকে সাংবাদিকদের দাবি, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদকর্মীদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।