জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ৫৫তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে।
আয়োজনে নবীনদের ফুলেল শুভেচ্ছা, দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ.কে.এম. রাশিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু সায়েফ মো. মোন্তাকিমুল বারী চৌধুরী।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আ ফ ম কামালউদ্দিন হল ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি নবীনুর রহমান নবীন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান শাহরিয়ার রমিম, রাজুয়ার হোসাইন, আশরাফুল ইসলাম রিয়েল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ অন্তরসহ হল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান শাহরিয়ার রমিম বলেন,
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আহ্বান—শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দাও, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার চেষ্টা করো, সহপাঠীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ হও এবং ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখো। তোমাদের সুন্দর, নিরাপদ ও সফল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের জন্য আন্তরিক শুভকামনা। তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।”
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি নবীনুর রহমান নবীন বলেন,
“প্রিয় ৫৫তম আবর্তনের সবাইকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণের ক্যাম্পাসে স্বাগত। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের পথ নয়; এটি নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় সুযোগ। এখানে তোমরা জ্ঞান অর্জন করবে, বন্ধুত্ব গড়ে তুলবে, নেতৃত্ব শিখবে এবং জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলো তৈরি করবে।
মনে রেখো, সততা, পরিশ্রম ও মানবিকতাই একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় পরিচয়। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু কখনো সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হতে দিও না। সহপাঠীর পাশে দাঁড়াও, শিক্ষকদের সম্মান করো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করো।
তোমাদের যে কোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। নিজের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের জন্য এমন কিছু করে যাও, যাতে একদিন তোমাদের নিয়েই সবাই গর্ব করতে পারে। তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে একটি মেধাবী, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। তোমাদের সকলের জন্য আন্তরিক শুভকামনা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।”
অনুষ্ঠান শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, স্মৃতিচারণ এবং ফটোসেশনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।