শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
Manarat Invitational- Chapter One এ বিজয়ী জবি ডিবেটিং সোসাইটির টিম ‘একাত্তরের গণহত্যা’ জবি মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে আরিফুল-শাকিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ–২০২৬ ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা সৈকতকে কুপিয়ে হত্যা জুলাই সনদের পথ ধরেই হাঁটবে সরকার: আইনমন্ত্রী তিন বন্ধুর হাত ধরে মফস্বলে স্বপ্নের দিগন্তে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’ সিংড়ার সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বানরীপাড়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নীলফামারীতে এনডিইএ’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ২১ শে আগস্ট উপলক্ষে জবিতে ব্যানার দিয়ে উপস্থিতি জানান দিল ছাত্রলীগ

শিক্ষার প্রসারে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা ফিফার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ মোট ভিউ

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনালে এবার দেখা যাবে সুপার বোলের আদলে জমকালো হাফটাইম শো। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফাইনালে বিরতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটি কেবল বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

ফিফা বলছে, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে হওয়া হাফটাইম শো একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তহবিল সংগ্রহের একটি মঞ্চ হিসেবেও কাজ করবে। এর লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবলের সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ডলার সংগ্রহ করা।

বিশ্বব্যাপী লক্ষ্য নিয়ে একটি হাফটাইম শো
এই শো-টি ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর একটি অংশ। এটি ফিফা এবং ‘গ্লোবাল সিটিজেন’-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা। ম্যাচের মাঝখানের সাধারণ বিরতি হিসেবে নয়, বরং এই হাফটাইম শো-টিকে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সাজানো হয়েছে। বিশ্বকাপের বিশাল দর্শকগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে সরকার, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সমর্থন ও সহায়তা জোগাড় করাই এর উদ্দেশ্য।

বিশ্বকাপের ফাইনালটি ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক দেখা ক্রীড়া ইভেন্ট হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, এই বিশাল পরিসরকে মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

বিশ্বের নজর কাড়তে তারকাখচিত পরিবেশনা

এই বিশেষ মুহূর্তের গুরুত্ব ও বিশালতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাফটাইম শো-তে থাকছে বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের এক জমকালো সমাহার। এতে পারফর্ম করবেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বার্না বয়, বিটিএস ও জাস্টিন বিবার; পাশাপাশি থাকবে ‘পিএস ২২ কোরাস’ ও ‘কোল্ডপ্লে’-এর বিশেষ পরিবেশনা।

এই অনুষ্ঠানটির আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন কোল্ডপ্লে-এর প্রধান শিল্পী ক্রিস মার্টিন; তার এই সম্পৃক্ততা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ এবং সঙ্গীত-কেন্দ্রিক বড় মাপের প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানের মধ্যকার গভীর সম্পর্কেরই প্রতিফলন। এর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের বড় বড় তারকাদের একত্রিত করে এমন এক সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করা যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং সেই মনোযোগকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’। দাতব্য অনুদান, করপোরেট অংশীদারিত্ব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সমন্বয়ে ১০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এটি কাজ করছে। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য হলো বড় দাতাদের কাছ থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায় করা এবং একই সঙ্গে সাধারণ ভক্তদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও ডিজিটাল সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই আয়োজনে শামিল হতে উৎসাহিত করা।

সংগৃহীত অর্থ ২০০টিরও বেশি দেশে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে সহায়তা করবে। এর একটি অংশ ‘ফুটবল ফর স্কুলস’-এর মতো উদ্যোগেও ব্যয় করা হবে; ফিফা ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচিটি খেলাধুলার মাধ্যমে পড়াশোনা ও জীবনমুখী দক্ষতা বিকাশে কাজ করে।

বিশ্বকাপ কেন এর জন্য উপযুক্ত মঞ্চ

বিশ্বকাপ মানেই কেবল ফুটবল খেলা নয়। এটি এমন গুটিকয়েক আয়োজনের একটি, যা বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে কোটি কোটি মানুষকে একত্রিত করতে সক্ষম। চরম দারিদ্র্য বিমোচনে নিবেদিত সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ এমন সব মুহূর্তকে কাজে লাগানোর ওপর ভিত্তি করেই তাদের কার্যক্রম সাজিয়েছে। তারা বিনোদন, জনসচেতনতা ও নীতি-নির্ধারণী উদ্যোগের সমন্বয় ঘটিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে।

সংস্থাটির দাবি, গত এক দশকে তারা ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায়ে ভূমিকা রেখেছে, যা বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি তাদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

এই ‘হাফটাইম শো’ বা বিরতিকালীন অনুষ্ঠানটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নতুন ধারার সূচনা করছে। এটি কেবল জমকালো কোনো প্রদর্শনী নয়, বরং এই মঞ্চের সক্ষমতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি প্রচেষ্টা। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয় ঘটিয়ে ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেন এমন এক প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে, যাতে চলতি আসরের ফাইনাল ম্যাচটি কেবল মাঠের খেলার জন্যই নয়, বরং মাঠের বাইরে অর্জিত সাফল্যের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকে। আর যদি ১০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়, তবে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই হাফটাইম শো-এর প্রভাব খেলার শেষ বাঁশি বাজার পরও দীর্ঘকাল টিকে থাকবে।

শেয়ার করুন

One thought on "শিক্ষার প্রসারে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা ফিফার"

Comments are closed.

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital