ভয়ংকর হচ্ছে যুদ্ধ-পরিস্থিতি। ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের পাঁচটি সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় ইরানে আটজন নিহত ও অন্তত নয়জন আহত হয়েছে। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় জর্ডানে যুদ্ধবিমান, ওমানে বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার ধ্বংসের পাশাপাশি সিরিয়ায় মার্কিন সেনা হতাহতের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ বড় ধরনের হামলার অভিযান সম্পন্ন করেছে। হামলায় ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, টানা ষষ্ঠ রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের বিভিন্ন শহর এবং পাঁচটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছে। পাশাপাশি হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের কাছে দুটি সেতুতে পৃথক হামলায় সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরআইবি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই লেঙ্গেহ, বন্দর-ই খামির, বন্দর আব্বাস শহর এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বড় আকারে বিমান অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বন্দর-ই খামির শহরের তিনটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি রেলস্টেশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, গতকাল হরমুজগান প্রদেশের ইরানশাহর শহরে একটি বিমানবন্দর মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কিশ দ্বীপে বিমান অভিযানের কারণে হরমুজগান প্রদেশের কিছু এলাকা অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব বিমানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হমলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বিমানের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। পৃথক হামলায় ওমানের ঘানিম অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং হরমুজ প্রণালির একটি পাথুরে এলাকায় স্থাপিত মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি রাডার ধ্বংস করা হয়েছে। পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরানশাহরের শহীদ সেনাদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে শত্রু পক্ষের বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে আকস্মিক হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় একটি রাডারব্যবস্থা এবং বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানশাহরের শহীদ সেনাদের রক্তের প্রতিশোধ হিসেবে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছে। এ ছাড়াও কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান।
আরও পড়ুন:
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম আবারও বেড়ে গেছে। তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে দেওয়ার পর ইরানের বন্দরে আবারও নৌ অবরোধ চালু করে যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের অবরোধে প্রণালিতে জাহাজ চালাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তেহরান ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারে।
One thought on "ইরানের সেতু রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরে মার্কিন হামলা, নিহত ৮"
Comments are closed.