জাপানে ৬ দিনের সফর শেষে রোববার (২৯ মার্চ) দেশে ফিরেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ঢাকায় ফেরার পরদিন সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরের ইউনূস সেন্টারের নিজ কার্যালয়ে যোগ দেন তিনি।
৬ দিনের এই সফরে টোকিওতে ‘হারমোনি বাই ডিজাইন: এশিয়া ডায়লগ’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নেন ড. ইউনূস। এই সংলাপের আয়োজন করে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন। সফরকালে সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী চুয়ান লিকপাইসহ আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রফেসর ইউনূস। এছাড়াও সফরে সাবেক ফার্স্ট লেডি আকি আবেসহ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
সফরকালে অধ্যাপক ড. ইউনূস ‘নেক্সট জেনারেশন এশিয়া পিসবিল্ডিং’ ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। যেখানে তিনি তরুণদের সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগকে শান্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান। এছাড়াও জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে শূন্য-খরচে অভিবাসনের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি।
এদিকে গত ২৬ মার্চ জাপানের অ্যানিমেশন, মাঙ্গা, গেমিং ও ডিজিটাল শিক্ষা খাতে অবদান রাখা একদল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন অধ্যাপক ড. ইউনূস। ওই বৈঠকে সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি এবং সামাজিক ব্যবসার সমন্বয়ে কীভাবে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সঙ্গে জিইএমএস-নেট উদ্যোগের আওতায় নৈতিক অভিবাসন বিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠকেও অংশ নেন তিনি।
অন্যদিকে ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটিতে সামাজিক ব্যবসা নিয়ে একটি আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ইউনূস। পরে গ্লোবাল ফোরাম ২০২৬ এ ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) গঠনের ওপর বক্তব্য দেন তিনি।
আরও পড়ুন :প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিরোধী দলীয় নেতা
এছাড়াও গত ২৭ মার্চ ইবারাকি প্রিফেকচারের সাকাই শহর পরিদর্শন করেন অধ্যাপক ড. ইউনূস। ওই সময় মেয়র মাসাহিরো হাসিমোতো তাকে স্বাগত জানান। যেখানে তিনি ‘থ্রি জিরো স্মার্ট সিটি’ ধারণা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেই সঙ্গে বান্ডো টারো কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের সামাজিক প্রভাবভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিকে সফরকালে জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা অধ্যাপক ড. ইউনূসের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন। ওই সময় তারা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সফরকালে ২৭ মার্চ টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত ‘ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে যোগ দেন ড. ইউনূস। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের আয়োজিত ওই সেমিনারের সহ-আয়োজক ছিলেন রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। এতে প্রায় একশ’ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী অংশ নেন। যেখানে বক্তব্যকালে অধ্যাপক ড. ইউনূস বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
৬ দিনের এই সফরে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং ওয়াইওয়াই ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা সজীব এম. খায়রুল ইসলাম।