ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই নতুন গল্প, নতুন নায়ক আর নতুন ইতিহাসের জন্ম। একসময় এই মঞ্চ থেকেই বিশ্ব ফুটবল পেয়েছিল লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা লুকা মদরিচের মতো তারকাদের। ২০২৬ বিশ্বকাপে যখন মেসি ও রোনালদো হয়তো শেষবারের মতো বৈশ্বিক আসরে মাঠে নামবেন, তখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে আরেকটি প্রশ্নে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব দেবেন কে?
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিভিন্ন দেশের কয়েকজন তরুণ ফুটবলার নিজেদের প্রতিভা, দক্ষতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এমনই ১০ উদীয়মান ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের মধ্যে কেউ একজন হয়ে উঠতে পারেন আগামী দিনের বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা এডিবির
তুরস্কের কেনান ইলদিজ ইতোমধ্যেই জুভেন্টাসের হয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে সমান কার্যকর এই ২১ বছর বয়সী ফুটবলারকে ঘিরে তুর্কি সমর্থকদের প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া।
আর্জেন্টিনার নিকো পাজকে অনেকেই দেখছেন মেসির উত্তরসূরি হিসেবে। ইতালিয়ান লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন তিনি।
ব্রাজিলের রায়ান, মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা এবং আইভরি কোস্টের ইয়ান দিওমান্দে ইতোমধ্যেই ক্লাব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে দিওমান্দের বাজারমূল্য ও পারফরম্যান্স ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়ছে।
ইংল্যান্ডের নিকো ও’রিলি, জার্মানির লেনার্ট কার্ল এবং ক্রোয়েশিয়ার লুকা ভুসকোভিচও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার অপেক্ষায় আছেন। তাদের বহুমুখী দক্ষতা ও ধারাবাহিক উন্নতি ইতোমধ্যে কোচদের আস্থা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন জাপানের কেইসুকে গোতো এবং ইরাকের আলি জাসিম। নিজ নিজ দেশের ফুটবলে নতুন আশার প্রতীক হয়ে ওঠা এই দুই ফুটবলার বিশ্বকাপকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাস বলে, একটি বড় টুর্নামেন্টই বদলে দিতে পারে একজন ফুটবলারের পুরো জীবন। তাই এবারও মেসি-রোনালদোর শেষ অধ্যায়ের পাশাপাশি সমান আগ্রহ থাকবে নতুন প্রজন্মের এই প্রতিভাবান ফুটবলারদের দিকে। কারণ বিশ্বকাপের আলোয় হয়তো জন্ম নিতে যাচ্ছে ফুটবলের পরবর্তী মহাতারকা।