শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারলেন না ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধান ৩০ বছর জেল দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন লালমনিরহাট সীমান্তে কড়া নজরদারি, বিজিবির সঙ্গে মাঠে স্থানীয়রাও চীনের মতো এগোতে হলে নিজেদেরই বদলাতে হবে: মির্জা ফখরুল অটো লগআউটের বিভ্রাটে ফেসবুক-মেসেঞ্জারের কোটি ব্যবহারকারী বাগাতিপাড়ায় জনকল্যাণে সহায়তার হাত প্রসারিত করলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উদ্ভাবনী ধারণা,গবেষণা এবং স্টার্টআপ অনুষ্ঠিত। পঞ্চগড়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা : কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ পঞ্চগড়ে ইউ-ড্রেন ভাঙায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

ঢাকার ৫৫ হটস্পটে ছিনতাই আতঙ্ক, পুলিশের নজরে ১,৩৮৭ দুর্ধর্ষ অপরাধী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ১৯ মোট ভিউ

 

 

নিজের অর্থ, মোবাইল ফোন কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে রাজধানীর রাস্তায় বের হওয়া এখন অনেকের কাছেই এক ধরনের ঝুঁকির নাম। রাতের অন্ধকার নয়, এখন দিনের ব্যস্ততম সময়েও সংঘটিত হচ্ছে ভয়ংকর ছিনতাই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, ডলার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে টাকা ও ডলার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

 

ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর সব থানায় বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জামিনে থাকা দাগি অপরাধীদের গতিবিধিও নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘পুলিশ যে হারে গ্রেপ্তার ও মামলা দিচ্ছে এতে ছিনতাই আর হওয়ারই কথা না। কিন্তু প্রক্রিয়াগত টালবাহানায় জ্যামিতিক হারে ছিনতাইকারী ও ছিনতাইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেননা মামলার বিবরণেই অপরাধীদের জামিন পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ছিনতাইকারীরা এখন বিভীষিকাময় চক্রের সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে অস্ত্র নিয়ে মানুষের সর্বস্ব লুট করছে। সুতরাং মামলা ও জামিনের প্রক্রিয়াগত টালবাহানা বন্ধ না হলে ছিনতাইকারীদের লাগাম টানা যাবে না।’

 

ডিএমপির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর আটটি বিভাগে তালিকাভুক্ত সক্রিয় ছিনতাইকারীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৭। এর মধ্যে ওয়ারী বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৩০৮ জন, তেজগাঁও ও উত্তরা বিভাগে ২৪০ জন করে, মতিঝিলে ১৬৮, লালবাগে ১৫৯, রমনায় ১৫২, গুলশানে ৬৭ এবং মিরপুরে ৫৩ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে।

 

পুলিশের তথ্য বলছে, এসব অপরাধীর প্রায় ৮০ শতাংশই একাধিক মামলার আসামি। অনেকেই গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, মাত্র ছয় মাস আগে তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা ছিল ৯৮৯। অল্প সময়ের ব্যবধানে এ সংখ্যা প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, তালিকাভুক্তদের বাইরেও রাজধানীতে আরও হাজারের বেশি ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। এদের বড় অংশ ভাসমান কিশোর ও মাদকাসক্ত। সুযোগ পেলেই তারা ছুরি, চাপাতি কিংবা সামুরাই ব্যবহার করে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে।

 

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের জন্য চিহ্নিত স্পটের সংখ্যা তিন শতাধিক হলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ৫৫টি এলাকা। এসব স্থানেই অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

 

ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসে রাজধানীতে ৮৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মে মাসে ছিনতাইয়ের সংখ্যা আগের দুই মাসের তুলনায় বেড়েছে। এপ্রিল মাসে ২৫টি ছিনতাইয়ের মধ্যে তেজগাঁওয়ে ৯টি, মতিঝিল, গুলশান ও ওয়ারীতে ৪টি করে এবং রমনা ও লালবাগে ২টি করে ঘটনা ঘটে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হটস্পটগুলো চিহ্নিত থাকার পরও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়া উদ্বেগজনক। এছাড়া অনেক ভুক্তভোগী মামলা না করে শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করায় প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

 

শুধু ছিনতাই নয়, মামলা করতে গিয়েও ভুক্তভোগীদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

গত ৯ এপ্রিল মতিঝিলে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অস্ত্রের মুখে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা ছিনতাইয়ের শিকার হন ব্যাংকার মো. মামুনুর রশিদ। তবে ঘটনার পর মামলা করতে তার প্রায় এক মাস সময় লেগেছে।

 

মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ওসি স্যার নেই, ছিনতাইয়ের প্রমাণ কী? আমরা তদন্ত করে দেখি’, এমন বিভিন্ন অসিলায় কালক্ষেপণ করা হয়।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘মামলায় অস্ত্র ঠেকানোর কথা উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি। অস্ত্রের কথা বললে থানা পুলিশ বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। বলতে থাকে ওটা খেলনা পিস্তল নাকি আসল পিস্তল, পিস্তল নাকি রিভলবার? নতুন হয়রানির ভয়ে ভেবেছি অস্ত্রের কথা না লেখুক, অন্তত মামলাটা হোক। ৫ মে মামলা রুজু হলেও এখনো তদন্ত এগোয়নি।’

 

এ বিষয়ে মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ না। আমারও ভুল থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

 

ছিনতাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, ‘ছিনতাইসহ যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সব সময় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। কিন্তু শতভাগ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। গ্রেপ্তারের বাইরে থাকা ওই অপরাধীরা দুয়েকটি ঘটনা ঘটিয়ে বসে। আবার যারা গ্রেপ্তার হয় তারা কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিএমপির সব থানায় কঠোর নির্দশনা দেওয়া হচ্ছে। সক্রিয় ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে জামিনে থাকা অপরাধীদের বর্তমান পরিস্থিতি জানতেও কাজ করছে পুলিশ।’

 

নগরবাসীর প্রত্যাশা, অভিযান ও নজরদারির পাশাপাশি বিচারিক প্রক্রিয়ায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান ছিনতাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital