গাজা উপত্যকার চলমান যুদ্ধ এবং মানবিক সংকট নিয়ে মোদি সরকারের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি যে অবস্থান ধরে রেখেছিল, বর্তমান সরকার তা থেকে সরে গিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
একটি নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের বিষয়ে নয়াদিল্লি কার্যত নীরব। এই নীরবতা শুধু নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
তিনি জাতিসংঘের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারির একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে দাবি করেন, সেখানে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে এবং ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাও সমালোচনা করেন সোনিয়া গান্ধী। তাঁর ভাষ্য, পর্যাপ্ত তথ্য ও আইনি প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব এই সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন:ইরান কখনোই শিক্ষা নেবে না, আমরাও ধৈর্য ধরব না: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে তিনি বলেন, গাজা ইস্যুতে ভারত প্রায় সম্পূর্ণ নীরব থেকেছে এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়নি। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের মিত্র উল্লেখ করে তিনি সরকারকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
সোনিয়া গান্ধীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস পররাষ্ট্রনীতিকে ভোটব্যাংক রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
পুনাওয়ালার দাবি, ভারত গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বহুবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং নিয়মিত মানবিক সহায়তাও পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাও পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বিজেপির এই মুখপাত্র বলেন, দলটি সবসময় পররাষ্ট্রনীতির চেয়ে ভোটব্যাংককে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলা নিয়ে কখনোই সরব হয় না।
One thought on "গাজা ইস্যুতে মোদি সরকারকে একহাত নিলেন সোনিয়া গান্ধী"
Comments are closed.