বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জাপান সরকার এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী আশ্রয় নির্মাণ সামগ্রী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্ন রান্নার চুলা সরবরাহ করা হবে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে ১১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। প্রায় ৩ হাজার ৩০০ পরিবারের জন্য মেরামতের উপকরণ সরবরাহ করা হবে এবং ৩০০ জন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য পোস্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে এবং ১৬২ জন শরণার্থী কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে সম্পৃক্ত হবেন।
ফ্রেইসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির নবম বছরে প্রবেশের আগে জাপানের ধারাবাহিক সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক সহায়তা সংকুচিত হওয়ার কারণে জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচিতে হুমকি দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশের উদার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারিত্বে শরণার্থীদের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষা করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তার জন্য জাপানের এই অতিরিক্ত তহবিল সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
চুক্তির আওতায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য পরিচ্ছন্ন রান্নার চুলা সরবরাহ করা হবে। এই চুলা ব্যবহার করে জ্বালানি কাঠের ঝুঁকি কমবে, নারীরা নিরাপদে রান্না করতে পারবেন এবং শিশুরা বেশি সময় শ্রেণিকক্ষে ব্যয় করতে পারবে। এলপিজি চুলা পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে সহায়ক হবে এবং স্থানীয় বনভূমি সংরক্ষণে অবদান রাখবে।
২০১৭ সাল থেকে জাপান রোহিঙ্গা সংকটে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করেছে। বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা সংকুচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের ধারাবাহিক ও দৃঢ় সহায়তা রোহিঙ্গাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে।